kalerkantho

ঈদে ৫ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়

মানিকগঞ্জ, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদে ৫ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়

ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত মাত্র ৭৫ কিলোমিটার সড়কে ঈদকে কেন্দ্র করে ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অন্তত পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বাস মালিকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েক দফায় জরিমানা করেও থামানো যায়নি বেপরোয়া বাস মালিকদের। এদিকে বাড়তি ভাড়া গুনে রাজধানীতে ফিরতে হচ্ছে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটের যাত্রীদেরও। এ ছাড়া গতকাল রবিবার আকাশ মেঘলা থাকায় লঞ্চ ও স্পিডবোটের সঙ্গে এ রুটের ফেরিতে যাত্রীদের ভিড়ও ছিল অনেক বেশি। চাপ সামাল দিতে লঞ্চঘাট এলাকায় দফায় দফায় ব্যারিকেড দেয় প্রশাসন। তবে ঘাটে যানবাহনের তেমন চাপ ছিল না।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুট রাজধানীর সঙ্গে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৪টি জেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এখানে দূরপাল্লার কোচগুলো ফেরির মাধ্যমে নদী পার হলেও অনেক বাসের যাত্রীরা পার হয় লঞ্চের মাধ্যমে। রাজধানীর গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত যাত্রীসেবা, পদ্মা লাইন, ভিলেজ লাইন, শুভযাত্রা, শুকতারা, লাক্সারী ডিলাক্স, বিআরটিসিসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করে। এসব বাসের যাত্রীরা লঞ্চে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে পার হয়। আবার ফেরার সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে করে পাটুরিয়া ঘাটে আসে। গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত এসব বাসের ভাড়া ৯০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্তু ঈদের আগে-পরে সাত-আট দিনে ভাড়া আদায় করা হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে গতকাল পর্যন্ত এই হারে ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে।

ঈদ উপলক্ষে কত যাত্রী এই পরিবহনগুলো ব্যবহার করে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ও পাটুরিয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াত করে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঈদের আগের তিন দিনে এবং পরের পাঁচ-ছয় দিনে কমপক্ষে তিন লাখ ৭৪ হাজার ৪০০ যাত্রী এ রুটে যাতায়াত করেছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় করার ফল হিসেবে বাস মালিকদের পকেটে পাঁচ কোটিরও বেশি অতিরিক্ত টাকা গেছে।

তবে বাসচালকরা জানায়, ঈদের আগে ঢাকা থেকে পাটুরিয়ার যাত্রী থাকলেও ফিরতি যাত্রী প্রায় থাকেই না। আবার ঈদের পরে পাটুরিয়া থেকে ঢাকার যাত্রী থাকলেও ঢাকা থেকে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যায় না। ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটু বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ পর্যন্ত দুজন চালককে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় শ যানবাহন থেকে এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি যানবাহন ও কাঁঠালবাড়ী ঘাটের স্পিডবোট ও  লঞ্চগুলোয় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে যাত্রীরা। শিমুলিয়ায় নেমেও বাড়তি ভাড়া গুনে রাজধানীতে পৌঁছতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঘাটের স্পিডবোটের যাত্রী হালিম মিয়া বলেন, ‘খুলনা থেকে বাসে ২০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়ে ঘাটে এসেছি। এখানেও স্পিডবোটে  ১৩০ টাকার ভাড়া ১৮০ টাকা নিল।’

এ ছাড়া গতকাল এ রুটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে অনেকেই। প্রশাসন কয়েক দফায় ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যানবাহনের চাপ ছিল না বললেই চলে। ফেরিগুলোকে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে এখানে।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুট হয়ে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোটেই যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। লঞ্চে এতটাই ভিড় ছিল যে টার্মিনালে ঢোকার মুখে প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করেন আনসার সদস্যরা। পরে পন্টুন থেকে লঞ্চে ওঠার মুহূর্তে বিআইডাব্লিউটিএ, পুলিশ, র‌্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে লঞ্চগুলোতে যাত্রী তোলা হয়। তবে এ সময় ধারণক্ষমতার পরিবর্তে লোডমার্ক মেনে যাত্রী তুলতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ী ঘাট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ, র‌্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা ঘাটে অবস্থান নিয়ে লঞ্চে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছি। কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে যাত্রী বহন করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা