kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ব্যাপারীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

পানি বিদ্যুৎ অপ্রতুল, নিরাপত্তা নিয়েও অসন্তুষ্টি

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাপারীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নাটোর থেকে চারটি গরু গাবতলী পর্যন্ত আনতে শুধু ট্রাকভাড়া দিতে হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এরপর হাটে এসেও খরচের শেষ নেই। প্রথমেই পড়তে হয় গরু বাঁধার জায়গা সংকটে। ইজারাদারদের অনেক অনুরোধ করে শেষ পর্যন্ত জায়গা পেলেও চারটি বাঁশের খুঁটির জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হবে শুনেই চোখ কপালে উঠে যায়। তবুও মেনে নিলাম। এত কষ্ট করে এসে ফিরে তো যাওয়া যাবে না। ভেবেছিলাম এত টাকা দেওয়ার বিনিময়ে হাটে কিছু সুবিধাতো মিলবে। কিন্তু গত দুই দিনে এক ফোঁটা পানির ব্যবস্থাও করে দেয়নি হাট কর্তৃপক্ষ। অন্য সুবিধাদীর কথা না হয় বাদই দিলাম। ষাটোর্ধ্ব শুক্কুর আলী অসহায় ভঙ্গিতে কালের কণ্ঠ’র কাছে এসব কথা বলছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাবতলী পশুর হাটে শুক্কুর আলীর সঙ্গে কথা বলার সময় এ প্রতিবেদকের কাছে নানা অভিযোগের কথা বলছিলেন গরু ব্যাপারিরা। শুক্কুর আলী বলছিলেন, তাঁর চারটি গরুর মধ্যে তিনটি বিদেশি একটি দেশি জাতের ষাঁড়। গত এক বছর ধরে বাছুর থেকে এসব গরু কোরবানির পশু হাট পর্যন্ত আনতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে তার। একটি গরুর পেছনে প্রতিদিন অন্তত ৩০০ টাকা করে খরচ হয়েছে। সেই হিসাবে চারটি গরু এ পর্যন্ত আনতে সব মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম। গ্রামে থাকলেও গরুগুলো ফ্যান ছাড়া রাখা যেত না। কিন্তু গাবতলী এসে ফ্যান ছাড়া পানি ছাড়া গরু রাখছি। দেখার কেউ নেই।

শুধু শুক্কুরই নন। একই ধরনের অভিযোগ করলেন মেহেরপুর গাংনীর গরু ব্যাপারি মোহাম্মদ নাসির, আলফাজ, শহীদুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়ার হোসেন আলী। তাঁদের সবার অভিযোগ, হাট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না তাঁরা। এঁদের মধ্যে মো. নাসির বলেন, ‘রাতে এখানে ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই খাবার পানি, বিদ্যুৎ। আবার কিছু সুবিধা পেতে আলাদা করে বাড়তি টাকা লাগছে। অথচ আমরা কতগুলো টাকা তাঁদের দিয়েই এখানে উঠেছি। হাটে অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার ও জাল টাকার কারবারিরা ঘোরাঘুরি করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব ঢিলেঢালা।

গরু ব্যাপারিদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলী পশুর হাট ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন বলেন, হাটে গত দুই দিন ধরে গরু ব্যাপরীরা আসা শুরু করেছে। তবে তাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। সেই সঙ্গে হাট মালিক (ইজারাদার) মো. লুত্ফর রহমান ২৪ ঘণ্টা হাটের খোঁজ রাখছেন। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান। তবে গাবতলী দেশের সব চাইতে বড় পশুর হাট। এখানে কিছু সমস্যাতো থাকবেই।    

এই হাটে শুধু গরু-ছাগল নয়, কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির জন্য পাকিস্তান থেকে উট, দুম্বাও আসছে। গতকাল হাটে কথা হয় উট, দুম্বা নিয়ে আসা ইমরান আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, উট ও দুম্বাগুলো ভারতীয় এক ব্যাপারির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে এসেছে। তিনি উটের দাম হাকাচ্ছেন ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা করে। আর দুম্বার দাম চাচ্ছেন সাড়ে তিন লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। তিনি বলেন, উটের দাম উঠেছে ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া হাটে তার আরো ৪২টি গরু এনেছেন। তিনি যোগ করেন, এবার হাটে এর মধ্যেই অনেক পশু এসেছে। তবে ক্রেতা সেভাবে আসা শুরু হয়নি। তবে পর্যায়ক্রমে ক্রেতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, উট ও দুম্বার ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। অতি কৌতূহলীদের ঠেকাতে তিনি খুঁটির সঙ্গে সাইনবোর্ড টানাতে বাধ্য হয়েছেন ‘উট ও দুম্বার গায়ে হাত দেওয়া নিষেধ।’

এ ছাড়া সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী পশুর হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুটি কন্ট্রোলরুম বসানো হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এ ছাড়া হাটের প্রবেশ পথেই সাজানো হয়েছে সুবিশাল একটি গেট। তার  চার পাশে বসানো হয়েছে মাইক। এসব মাইকে সতর্কতার পাশাপাশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা