kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

সিলেটে গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলা

বিচারের অপেক্ষায় ১৫ বছর

সিলেট অফিস   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেটের গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগের সভাস্থলে গ্রেনেড হামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি ১৫ বছরেও। ২০০৪ সালে সংঘটিত এ ঘটনায় দুটি মামলা হলেও একটি মামলা অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে নিয়ে যেতে লেগেছে ১০ বছর। তিন বছর ধরে এ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণও বন্ধ আছে। আরেকটি মামলার অভিযোগ গঠন করতেই লেগেছে ১৪ বছর। ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শুরুই হয়নি।

সিলেট নগরের তালতলা এলাকায় অবস্থিত গুলশান সেন্টারে ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তৎকালীন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী নিহত এবং তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়।

হামলার ঘটনায় ওই বছরের ৮ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রথমে মামলা দুটি তদন্ত করে থানার পুলিশ। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সিআইডি বিস্ফোরক মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, হুজির সিলেট অঞ্চলের নেতা শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুলসহ আট জঙ্গিকে অভিযুক্ত করা হয়।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে মামলা দুটির অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। এরপর ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই সিআইডি বিস্ফোরক মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে নতুন করে দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁরা হলেন মাওলানা তাজউদ্দিন ও ‘কাশ্মীরি জঙ্গি’ আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট। এর মধ্য দিয়ে ঘটনার ১০ বছর অতিবাহিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পরে ২০১৪ সালে বিস্ফোরক মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় সাক্ষী রয়েছেন ৬৮ জন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত মামলার মাত্র ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সব শেষ ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৯ আগস্ট এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য তারিখ। মামলাটি বর্তমানে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

আর ১৪ বছর পর গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যা মামলাটির চার্জ গঠন হয়েছে গত বছর ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

জানা গেছে, এ দুটি মামলায় আসামিদের মধ্যে হুজি-বি শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, দেলোয়ার হোসেন রিপন ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল। মূলত প্রধান তিন আসামির অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়ে যাওয়া এবং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা থাকায় তাদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় বিচারকাজে এই বিলম্ব ঘটেছে। এ তথ্য স্বীকার করেছেন সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট শাহ মো. মোসাহিদ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : সিলেটে গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকীতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরের চালিবন্দরে ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা