kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

পুলিশের নামে মামলা করে নিজেই আসামি!

‘আমি ডাকাত নই আমাকে বাঁচান স্যার’

বিশেষ প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমি ডাকাত নই স্যার। অস্ত্রধারীও নই। ছোটখাটো ব্যবসা করে খাই, কিন্তু ওরা (পুলিশ) আমাকে বাঁচতে দেবে না। শেষ করে ফেলবে। মিথ্যা মামলায় আমাকে ফাঁসিয়েছে। কারণ আমি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। দয়া করে আমাকে বাঁচান স্যার।’

গত সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় বজলু হোসেন নামের এক আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে এই কাকুতি-মিনতি জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁর পক্ষে শুনানি করছিলেন। এ সময় আইনজীবীকে থামিয়ে আসামি নিজেই কথা বলেন। তিনি আদালতকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই এগুলো তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ। অথচ এর চার দিন আগে ডিবি পুলিশ তাঁকে রাজধানীর বাড্ডা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই রাতে যাত্রাবাড়ী থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইন এবং মাদক আইনে দুটি পৃথক মামলা করেন। মামলায় বজলু হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। দুই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার জামিয়াতু ইব্রাহিম মাদরাসা রোডে একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ডিবি পুলিশের টহলদল তাদের আটক করে। এ সময় বজলু হোসেনের কোমর থেকে আমেরিকায় তৈরি একটি পিস্তল ও একটি শপিং ব্যাগে রাখা দুই হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ১ আগস্ট অস্ত্র মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় বজলুকে। গত সোমবার মাদক মামলায় রিমান্ডের আবেদন শুনানি ছিল।

বজলু হোসেনের বক্তব্য : আদালতে বজলু হোসেন আরো জানান, তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা করেন। গত ২৭ জুলাই দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে বাড্ডার ডিআইটি প্রকল্পের ১২ নম্বর রোডের ২৬ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। তাঁকে আটক করেই ডিবি পুলিশ বলে, ‘তোর এত বড় সাহস, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করিস।’ বজলু আদালতকে জানান, তাঁকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়েছে। সারা জীবন কারাগারে রাখার ব্যবস্থাও করা হবে বলে পুলিশ ভয় দেখিয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা : পুলিশ কনস্টেবল শহিরব আসামি বজলুর বন্ধু। ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল বিকেলের দিকে বজলু হোসেনকে মিরপুরে একটি বিয়ের দাওয়াত খেতে নিয়ে যান একটি মাইক্রোবাসে করে। শহিরবের সহযোগীরা ওই গাড়িতে ছিলেন। শহিরব একপর্যায়ে উত্তরা র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনে গাড়ি থেকে নেমে যান। অন্যরা মাইক্রোবাসে করে বজলুকে নিয়ে মিরপুর মডেল থানার পেছনে যান। সেখানে তাঁকে আটকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। 

বজলু ও তাঁর স্বজনদের দাবি, বজলুর মামলার আসামি যেসব পুলিশ সদস্য তাঁরাই ষড়যন্ত্র করে অন্য একটি দলের সঙ্গে আসামি করে হয়রানি করছে বজলুকে।

‘পুলিশ বন্ধুর প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব এক ব্যবসায়ী’ শিরোনামে গত বছরের ২৪ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় কালের কণ্ঠে। এরপর ওই পুলিশ সদস্যরা আদালত থেকে জামিন নেন বজলুকে তাঁর টাকা দিয়ে দেবেন এই শর্তে, কিন্তু এখনো টাকা পরিশোধ করেননি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা