kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে বিদেশিদের অস্ত্র

মিয়ানমারের কাছে ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ, সামরিক প্রদর্শনীগুলোতেও মিয়ানমারের সামরিক কর্তারা নিষিদ্ধ

মেহেদী হাসান   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সামরিক বাহিনীর অভিযানে ব্যবহৃত ‘আরপিজি-সেভেন’ (রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার) ও ‘এম-থ্রি কার্ল গুস্তাভ রিকয়েললেস রাইফেল’ বিদেশ থেকে কিনেছিল মিয়ানমার। প্রথম অস্ত্রটি তৈরি হয় রাশিয়ায়, দ্বিতীয়টি সুইডেনে। অভিযানের আগে আটটি ‘এমআই-ফিফটিন হেলিকপ্টার’ রাখাইনে নেওয়া হয়েছিল। নিপীড়নের শিকার হওয়া রোহিঙ্গারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে ‘এমআই-ফিফটিন হেলিকপ্টারের’ ব্যবহার হতে দেখেছে। ওই হেলিকপ্টারগুলো মিয়ানমারকে সরবরাহ করে রাশিয়া। নিধনযজ্ঞ চলার সময় বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে অন্তত এক দফা গোলা ছোড়া হয়েছিল রোহিঙ্গাদের গ্রাম লক্ষ্য করে। এই সক্ষমতাও মিয়ানমার পেয়েছে বিদেশিদের কাছ থেকে।

মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নিধনযজ্ঞ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বিশ্বের কাছে খুব একটা অজানা ছিল না। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও নৃশংসতার তথ্য উঠে আসছিল। কিন্তু এসব সত্ত্বেও বেশ কিছু দেশ মিয়ানমার বাহিনীর কাছে তখন মারণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তুলে দিয়েছিল। ওই দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র ও সরঞ্জাম রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানে মিয়ানমার বাহিনীর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সেই অস্ত্র ও সরঞ্জাম এখনো রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেকজান্ডার ফোমিন তাঁর দেশের দেওয়া যুদ্ধবিমানগুলো মিয়ানমারের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং যেকোনো সন্ত্রাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠার কথা বলেছিলেন। গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক মস্কো সম্মেলন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তাঁর বাহিনীকে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম বেশ কাজে দিয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশন তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রাশিয়াসহ অন্তত সাতটি দেশকে চিহ্নিত করেছে যারা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ঝুঁকির কথা জেনেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। বেশ কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এবং কথিত জঙ্গি হামলার অজুহাতে মিয়ানমার বাহিনী ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান শুরু করে। সে সময় রোহিঙ্গাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাতিসংঘ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ না করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু সাতটি দেশের অন্তত ১৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারকে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার রক্ষাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন সেবা, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান, কামান, ক্ষুদ্রাস্ত্রসহ এ ধরনের আরো অনেক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহে এগিয়ে আছে চীন, উত্তর কোরিয়া, ভারত, রাশিয়া ও ইউক্রেন। ইসরায়েলও মিয়ানমারকে অস্ত্র দিয়েছিল। ইসরায়েলের আদালত মিয়ানমারকে নতুন করে অস্ত্র দেওয়া আটকে দিয়েছে। এমনকি ইসরায়েলে সামরিক প্রদর্শনীতেও মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত এপ্রিল মাসে চীন সফরকালে বলেছেন, চীন অতীতে মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং এখনো করছে। অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে মিয়ানমার অবশ্যই চীনের ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের ওই মিশন মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহকারী ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গত সোমবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমার গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের ওই মিশন ও আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা ওই মিশনকে স্বীকৃতি দেয় না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা