kalerkantho

অপহৃত সাংবাদিক সুনামগঞ্জে উদ্ধার

স্কুল কমিটির কেউ জড়িত কি না তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘অপহরণের পর আমাকে চোখ বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। কোনো খাবার এমনকি একটু পানিও দেওয়া হয়নি। এখানে (সুনামগঞ্জ) এনে ফেলে যাওয়ার আগে গাড়িতে ওরা আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে আমাকে নিয়ে মিডিয়ায় কেন এত তোলপাড়। এসব কথা বলে আমাকে ওরা কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।’

রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গত শনিবার নিখোঁজ হওয়া মোহনা টিভির রিপোর্টার মুশফিকুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর এসব কথা বলেন। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে আরো বলেন, ‘আমাকে কেন অপহরণ করা হয়েছে জানি না। তবে সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার পর আমাকে বিরোধীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারা কাউকে দিয়ে এটা করিয়েছে কি না তদন্ত হওয়া উচিত।’

সাংবাদিক মুশফিকুর রহমানকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে গোবিন্দপুর মসজিদের কাছে রাস্তার পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। স্থানীয় মুসল্লিরা ফজরের নামাজে আসার পথে তাঁকে দেখে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসছিলেন। এ সময় লক্ষ করেন এক ব্যক্তি ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছেন। এগিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান। তাঁরা ওই যুবককে (মুশফিক) মসজিদে নিয়ে নাক-মুখে পানির ঝাঁপটা দেন। জ্ঞান ফিরলে তিনি পানি খেতে চান এবং কোথায় আছেন তা জানতে চান। পরে তিনি পরিচয় জানালে মুসল্লিরা থানায় যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে সদর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৭টায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।

এসআই জিন্নাতুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা শুরু হলে মুশফিক কতাবার্তা বলতে শুরু করেন। তিনি জানিয়েছেন যে অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে নিয়েছিল। এ জন্য কিছু দেখতে পারেননি।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, মুশফিকুর রহমান শঙ্কামুক্ত। তবে তাঁর শরীরে কিল-ঘুষির চিহ্ন রয়েছে।

মন্তব্য