kalerkantho

রেলওয়ে থানায় গৃহবধূকে গণধর্ষণ!

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এখনো বহাল

শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বিচার দাবি আসকের
পুলিশের আরেকটি তদন্ত কমিটি

খুলনা অফিস   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এখনো বহাল

প্রতীকী ছবি

থানা হাজতে আটকে রেখে তিন সন্তানের জননীকে (৩০) ধর্ষণে অভিযুক্ত খুলনা জিআরপি (রেলওয়ে) থানার ওসি উসমান গণি পাঠান ও অন্য চার পুলিশ সদস্য এখনো কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে গঠিত জিআরপি পুলিশ কমিটির সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। আর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খুলনা রেলওয়ে থানায় একজন নারীকে রাতভর আটকে রেখে গণধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ‘হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

জিআরপির তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে গৃহবধূ গণধর্ষণ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছি। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রিপোর্ট দিতে পারব।’ অভিযুক্তরা বহাল প্রসঙ্গে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আদালতের কোনো নির্দেশ না পাওয়ায় তাঁদের বহাল রাখা হয়েছে। তবে এতে তদন্ত বিঘ্নিত হবে না।’

জিআরপি থানা হাজতে নারীকে আটকে গণধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমেছে ক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল সকাল ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে নাগরিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’ এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

খুলনা জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাসদ নেতা মো. খালিদ হোসেন, মহানগর সিপিবির সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, নারীনেত্রী শামীমা সুলতানা শিলু, নারীনেত্রী সিলভী হারুন, মানবাধিকারকর্মী মোমিনুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মফিদুল ইসলাম, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, ন্যাপ নেতা তপন রায়, টিআইবির প্রগ্রাম ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জনউদ্যোগের সদস্যসচিব মহেন্দ্রনাথ সেন।

এদিকে পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রেলওয়ে পুলিশ খুলনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে করা এক নারী আসামিকে ধর্ষণের অভিযোগটি অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আসকের উদ্বেগ, তদন্ত ও শাস্তি দাবি : খুলনা রেলওয়ে থানায় একজন নারীকে রাতভর আটকে রেখে গণধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ওঠায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক বলেছে, ‘সম্প্রতি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতির যে শুনানি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে অনুষ্ঠিত হলো, সেখানে আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রেখেছে বলে উল্লেখ করেছেন।

মন্তব্য