kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

মিটফোর্ডে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

উপকরণ শেষ, তাই বন্ধ এনএস-১ পরীক্ষা

বিনা মূল্যের সিবিসি পরীক্ষায় নেওয়া হচ্ছে অর্থ

মাসুদ রানা   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিলেও সেটা অধরাই রয়ে গেছে অনেক ক্ষেত্রে। বাস্তবে ডেঙ্গু রোগীদের সিংহভাগকে চিকিৎসা বাবদ হাজার হাজার টাকা খরচ করতেই হচ্ছে। নিরুপায় হতদরিদ্র লোকজন চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে ছুটছে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। এদিকে, পুরান ঢাকার সরকারি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা হচ্ছে না। যে কারণে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বাধ্য হচ্ছে বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে। এমনকি রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাপ নির্ণয়ে বিনা মূল্যের সিবিসি পরীক্ষার জন্যও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার উপকরণ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে ডেঙ্গু নির্ণয়ের এনএস-১ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নির্ণয়ের জন্য শুধু সিবিসি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখানে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৩৬ জন ভর্তি আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে আক্রান্ত নতুন ১০২ জন ভর্তি হয়েছে এবং ৯৪ জন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে বাড়ি ফিরে গেছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত এক হাজার ৪৭৫ জন চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনের দোতলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য কয়েক শ পুরুষ ও নারী লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে দায়িত্বরত আনসাররা টাকার বিনিময়ে নিজেরা রোগী সেজে লাইন ডিঙিয়ে অন্য রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ করে দিচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের জন্য মশারি থাকলেও তারা তা ব্যবহার করছে না। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর তুলনায় দর্শনার্থীরা সংখ্যায় বেশি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বেডে অনেক দর্শনার্থীকে শুয়ে-বসে গল্প করতে দেখা গেছে। এমনকি প্রতি রোগীর জন্য একজন সঙ্গী থাকার নিয়ম থাকলেও প্রত্যেকের সঙ্গেই দুই-তিনজন করে দর্শনার্থীকে দেখা গেছে। এ ছাড়া একজনের বেশি দর্শনার্থী ঢুকতে না দিলে গেটে দায়িত্বরত আনসারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে আসার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বর্ণা নামের একজন ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল আসেন। পরে টিকিট কেটে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্লিপ নিতে গেলে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়। আয়শা নামের এক নারী বলেন, ‘আমার বাচ্চার ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য এসেছি। ডাক্তার বলেছেন এখানে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে না। পরে সিবিসি পরীক্ষার জন্য গেলে আমার কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এখন বাসায় ফিরে যাব সেই টাকাও নেই।’

রেজাউল নামের একজন বলেন, ‘এখানে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কথা শুনে এসেছি। কিন্তু এত দূর থেকে এসে দেখি ডেঙ্গু পরীক্ষা হচ্ছে না। তাই একটু বিশ্রাম নিয়ে ফিরে যাব।’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নির্মল চন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শনিবার ডেঙ্গু পরীক্ষার রি-এজেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ আছে। তবে আমরা রি-এজেন্টের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রি-এজেন্ট পাওয়া যেতে পারে। পাওয়া গেলে তখন আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু করব। তবে মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ দিলে আমরা নিজেরাও ক্রয় করতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা