kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতার ডেপুটি মেয়র

ঢাকার মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার কমানোর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব স্থানে লার্ভিসাইড ব্যবহার করলে মশা মরার পরিবর্তে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া ধোঁয়া (অ্যাডাল্টিসাইড) ব্যবহারে মশা খুব একটা মরে না। এক স্থানে ধোঁয়া দিলে মশা অন্য স্থানে উড়ে যায়। ধোঁয়ার ব্যবহারও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশকের ব্যবহার বহু আগে থেকে কমিয়ে দিয়েছে কলকাতা পৌর সংস্থা। ভিডিও কনফারেন্সে এভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতার ‘দর্শন’ বর্ণনা করলেন শহরটির ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।

মশা নিয়ন্ত্রণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার পৌর সংস্থার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বেশ প্রশংসিত। মশা নিয়ন্ত্রণে কলকাতার কৌশল জানতে গতকাল সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

অতীন ঘোষ জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১০ বছর ধরে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে কলকাতা। মশা নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় শহরটিতে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ জনের মতো কর্মী কাজ করেন। মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ার সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করেন তাঁরা। মশা সম্পর্কে ডাক্তার, স্থানীয় কাউন্সিলর এবং নাগরিকরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া প্রতিটি হাসপাতালে সিটি করপোরেশনের কর্মী রয়েছে মশাবাহিত রোগীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। রোগীর তথ্য জানার পর তার বাড়িতে মশা মারতে চলে যান কর্মীরা। এ ছাড়া যেসব স্থানে মশার লার্ভা থাকতে পারে সেসব স্থানে প্রথমত ওষুধ প্রয়োগ না করে লার্ভা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেন কর্মীরা। নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ করে ওয়ার্ড পর্যায়ের ওই টিম। তবে লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনে পরিমিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি জানতে কাউন্সিলদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক সাপ্তাহিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মশা নিয়ন্ত্রণের ৭০ শতাংশ কাজ ওয়ার্ড পর্যায়েই হয়ে যায়। ওয়ার্ডের কাজ তদারকির জন্য আঞ্চলিক কমিটি রয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজের কোনো গাফিলতি থাকলে বা নাগরিকদের অভিযোগ পাওয়া গেলে আঞ্চলিক কমিটি তা সমাধান করে। আঞ্চলিক পর্যায়ে আরো ৫-১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। আর সার্বিক মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে কলকাতায়। কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো কাজ করার জন্য ওই টিম কাজ করে।

কীটতত্ত্ববিদরা জানান, কলকাতা শহরে এডিস, ম্যালেরিয়া, কিউলেক্সসহ প্রায় ১২ প্রজাতির মশা রয়েছে। এদের মধ্যে ম্যালেরিয়া এবং কিউলেক্স প্রজাতির মশা ওষুধ প্রয়োগে ধ্বংস সম্ভব। বাকিগুলো ওষুধ ছিটিয়ে মারা সম্ভব নয়। তাই কলকাতা ওই সব মশার উৎস ধ্বংসে জোর দিয়ে থাকে। এ ছাড়া মশার উৎস ধ্বংসে নাগরিকদের যুক্ত করা হয়। কারো বাসায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থাও রয়েছে। মশার প্রজাতি চিনতে এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে মশক কর্মীদের ল্যাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কলকাতায়। রাক্ষুসে মাছ অবমুক্ত করে জৈবিক পদ্ধতিতে মশা ধ্বংসের বিষয়টি খুব একটা কাজে আসে না বলে উল্লেখ করেন কলকাতার কীটতত্ত্ববিদরা।

অতীন ঘোষ বলেন, ‘মশার লার্ভা ধ্বংস না করলে পৌর আইন-১৯৮০ অনুযায়ী ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। আইন সংশোধন করে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বর্তমানে বাড়ির মালিককে এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে সিটি করপোরেশন।’

আতীন ঘোষ আরো বলেন, ‘কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ঢাকা সফলতা পেতে পারে। কারণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার বিকল্প নেই। কীটনাশক না ছিটানোর ফলে প্রাথমিকভাবে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। কিন্তু সুফল পেলে জনগণের সে প্রশ্ন থাকবে না।’

ভিডিও কনফারেন্স শেষে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘কলকাতা কীটনাশক প্রয়োগের ব্যাপারে উৎসাহী নয়। তারা স্বল্প পরিসরে লার্ভিসাইড এবং অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করে। এ ছাড়া সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, মনিটরিং এবং মশার উৎস ধ্বংসের ব্যাপারে সচেতন তারা। কলকাতার মডেল অনুসরণ করতে হলে আমাদের অর্গানোগ্রাম ঢেলে সাজাতে হবে।’

ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক খলিলুর রহমান, কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে কলকাতা পৌর সংস্থার মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক মুখ্য পরামর্শক তপন মুখার্জি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা