kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

লেবাননে একজনের কারণে বাংলাদেশিদের এক্সিট ভিসা বন্ধ!

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে ফেরার জন্য এক্সিট ভিসা সংগ্রহ করেও ফিরে না আসায় লেবাননে বাংলাদেশিদের ‘এক্সিট ভিসা’ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, পপি বেগম নামে এক বাংলাদেশি নারী গত জুন মাসে স্বামী, দুই সন্তানসহ দেশে ফেরার জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগ তাঁদের ‘এক্সিট ভিসা’ দেয়। কিন্তু পরে পপি বেগমের স্বামী ও দুই সন্তান দেশে ফিরলেও পপি বেগম থেকে যান। এর পর জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানিয়ে দেয় যে পপি বেগম না ফিরলে তারা বাংলাদেশিদের জন্য আর কোনো ‘এক্সিট ভিসা’ ইস্যু করবে না।

পরিস্থিতি তুলে ধরে বাংলাদেশ দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পপি বেগমের সন্ধান পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, পপি বেগম গতকালই দূতাবাসে গিয়েছিলেন। তাঁকে পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পপি বেগম অবৈধভাবে লেবাননে আছেন। তবে তাঁর স্বামী সেখানে আছেন বৈধভাবে। পপি বেগম তাঁর যমজ সন্তানকে দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন করলে লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগ বলেছিল, যেহেতু পপি বেগমও অবৈধভাবে আছেন, তাই তাঁকেও ফিরে যেতে হবে। সেটি মেনে নিয়েই এক্সিট ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন পপি বেগম। দেশে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে গেলেও তাঁর প্রস্তুতি ছিল না ফেরার। প্রথমে তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান ইমিগ্রেশন ডেস্ক অতিক্রম করে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তখন পপি বেগমের খোঁজ করেনি। ফলে তিনি লেবাননে থেকে যান। তাঁর স্বামী এ দেশে দুই সন্তানকে রেখে আবারও লেবাননে ফিরে যান।

এদিকে জেনারেল সিকিউরিটি বিভাগ পরে তথ্য মেলাতে গিয়ে জানতে পারে, পপি বেগম লেবাননেই আছেন। যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ‘এক্সিট ভিসা’ দিয়েছেন তাই পপি বেগমকে ফিরে পেতে দূতাবাসকে চাপ দেয় এবং তিনি না ফেরা পর্যন্ত আর ‘এক্সিট ভিসা’ না দেওয়ার কথা জানায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে আছেন মূলত তারাই দেশে ফেরার জন্য ‘এক্সিট ভিসা’ নেন। এক্সিট ভিসা বন্ধ থাকার কারণে অসুস্থ বা জরুরি বিভিন্ন কারণে দেশে ফিরতে আগ্রহীরা ফিরতে পারছেন না।

জানা গেছে, লেবানন থেকে ঢাকায় ফেরার ফ্লাইটের টিকিটের দাম এখন বেশ চড়া। পপি বেগম আসন্ন ঈদুল আজহার পর ফিরতে পারেন। বাংলাদেশ দূতাবাস এক্সিট ভিসা চালু করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা