kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

মির্জাপুরের নির্মাণাধীন চার বাইপাস নিয়ে দুশ্চিন্তা

ঈদ যাত্রা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবছর ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষকে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী পশুবাহী শত শত ট্রাকও যানজটে আটকা পড়ে। অবশ্য এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটা স্বস্তির হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মহাসড়কে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার চার লেন কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সমাপ্ত হয়েছে। তার পরও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চারটি পয়েন্টে বাইপাস নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ওই সব পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ ২৬টি জেলার ৯০টি রোডের বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে থাকে। দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২০১৩ সালে দুই লেনের মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পে দুটি সার্ভিস লেন, ২৯টি নতুন ব্রিজ, চারটি ফ্লাইওভার ও ১৪টি আন্ডারপাস সংযুক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে সূত্রের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ মে উদ্বোধনের পর দুটি ফ্লাইওভার ও চারটি আন্ডারপাস ব্যবহার শুরু হয়েছে। মহাসড়কের দুই দিকে বর্ধিত কাজের মধ্যে দক্ষিণ পাশের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উত্তর পাশের কাজ চলমান। মহাসড়কে যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এত কিছুর পরও ঈদে যানজটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, কুরনী, ধল্যা ও জামুর্কী বাইপাস এলাকা হতে পারে ঘরমুখো মানুষ ও পশু ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা। এসব স্থানে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পাথর কুচি থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোড়াই-সখীপুর সড়ক মিলিত হয়েছে। সড়কটি দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল হয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। এসব যানবাহন মহাসড়ক আড়াআড়ি পার হওয়ার সময় প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর এই পয়েন্টেই ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ এখনো চলমান। এ বছরও গোড়াই এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের ২৬টি জেলার পশু ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে গরু-ছাগল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটে বহন শুরু করেছে। এতে মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাক চলাচল বেড়ে গেছে। প্রতিবছরই ভয়াবহ যানজটে আটকা পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও পশু ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যানজটের কারণে নির্ধারিত হাটে যেতে না পেরে আটকা পড়ে কম দামে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা