kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

নাফ নদ সাঁতরে ইয়াবা পাচার, রোহিঙ্গা আটক

‘রিসিভিং সেন্টার’ হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টানা দেড়-দুই ঘণ্টা সাঁতরে নাফ নদ পাড়ি দেয় রোহিঙ্গা যুবক নুরুল আমিন (২৪)। শান্ত নাফ নদ ভরা বর্ষায় প্রমত্ত রূপ ধারণ করে। কিন্তু আমিনদের মতো রোহিঙ্গাদের কাছে সেটা কোনো বাধা নয়। শুধু খালি গায়ে নয়, সঙ্গে বড়সড় ইয়াবার চালানও থাকে। সর্বশেষ গত রবিবার ৫০ হাজার ইয়াবার চালান গলায় ঝুলিয়ে নাফ নদ পাড়ি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে সে টেকনাফ থানা-পুলিশের হাতে। জিজ্ঞাসাবাদে আমিন জানায়, এভাবেই মিয়ানমার থেকে চালানের পর চালান ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার করে আসছে সে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশল প্রসঙ্গে জানান, দুই দেশের সামীনা দিয়ে বয়ে চলা নাফ নদটির প্রশস্ততা যেখানে সবচেয়ে কম সেখানেই নুরুল আমিনের মতো রোহিঙ্গারা ভিড় জমায়। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা সীমান্তে ইয়াবাবিরোধী অভিযান জোরদার করায় পাচারকারীরা নিত্যনতুন কৌশল নেয় পাচারের কাজে।

টেকনাফ থানা-পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু থানার নাফফুরা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং সি-ওয়ান শিবিরে পরিবারের ১২ সদস্য নিয়ে বসবাস করে। নাফ সাঁতরে সে প্রায়ই আসা-যাওয়া করে মিয়ানমার-বাংলাদেশ। সঙ্গে থাকে ইয়াবার বড় চালান।

জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা নুরুল আমিন পুলিশকে জানায়, পানির স্পর্শ যাতে না পায় সে জন্য  কয়েক স্তর পলিথিনে মুড়ে নেওয়া হয় ইয়াবার প্যাকেট। এরপর তা গলায় ঝুলিয়ে নাফ নদে সাঁতরে পাড়ি দেওয়া হয়। নাফ নদে ভাটার সময় কখনো কখনো এক ঘণ্টা বা আরো কম সময় সাঁতরে এপারে উঠে যাওয়া সম্ভব হয়।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইয়াবার চালান নিয়ে মিয়ানমার থেকে নাফ নদ সাঁতরে আসা রোহিঙ্গা নুরুল আমিন বড় মাপের ক্রিমিনাল। সহজে তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। তবে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে যা জানা গেছে তা হচ্ছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরটি হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ইয়াবা ডিপোর একটি। অসংখ্য রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে দিবা-রাত্রি নাফ নদ দিয়ে ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে।’

ওসি জানান, নাফতীরের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরটি বর্তমানে ইয়াবার রিসিভিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শিবিরের ইয়াছিন নামের রোহিঙ্গা হচ্ছে ইয়াবার বড় একজন ডিলার। পুলিশের হাতে ৫০ হাজার ইয়াবার চালান নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া নুরুল আমিন ডিলার ইয়াছিনের নিয়োজিত বেশ কয়েকজন পাচারকারীর মধ্যে একজন মাত্র।

পুলিশ জানায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান প্রথমে উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরে ডিলারের কাছে জমা হয়। পরে সেখান থেকে কুতুপালং শিবিরের ‘ইয়াবা ডিপোয়’ চালান পৌঁছানো হয়ে থাকে। এরপর সেখান থেকে দেশের নানা প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে ইয়াবার চালান পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এনজিওগুলো।

অভিযোগ উঠেছে, এনজিওগুলোর কর্মীরা এবং তাদের ব্যবহৃত যানবাহনগুলো ইয়াবা পাচারে ব্যাপকভাবে জড়িত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা