kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

চাচা আটক

লক্ষ্মীপুরে অপহরণের ১৩ ঘণ্টা পর মা বাবার কোলে ফিরল শিশু মিনহাজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ১৩ ঘণ্টা পর মা-বাবার কোলে ফিরেছে ২০ মাস বয়সী শিশু মিনহাজ। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পৌরসভার লাহারকান্দি এলাকার জাফর মুহুরির বাড়ির পেছনে ডোবার পাড় থেকে মিনহাজকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় তার মুখে টেপ লাগানো ছিল। উদ্ধারের পর অসুস্থ ওই শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামের এলাহি বক্স মাঝিবাড়ীর বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মামুনের ছেলে মিনহাজ। এ ঘটনায় শিশুর চাচা মাহবুব হোসেনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মিনহাজের পরিবার জানায়, গত রবিবার (৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মিনহাজকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তার মা-বাবা। রাত ২টার দিকে ঘুম ভেঙে তার মা কোহিনূর আক্তার দেখতে পান মিনহাজ বিছানায় নেই এবং ঘরের দরজা খোলা। এ ছাড়া তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নেই ঘরে। এ সময় মিনহাজের মা-বাবার আহাজারিতে প্রতিবেশীরা এসে জড়ো হয়।

এদিকে হারানো মোবাইল নম্বরটি থেকে ভোরে মিনহাজের বাবার কাছে কল আসে। ফোনে তাঁদের জানানো হয়, পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে ছেলেকে ফেরত পেতে। থানা পুলিশের ধারণা, কৌশলে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটিকে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সোমবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন, সদর মডেল থানার ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া ও লাহারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন মুশু পাটওয়ারী। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি এ কে এম আজিজুল হক মিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর আশপাশ এলাকায় আমরা পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে শিশুটির সন্ধান চালাই। একপর্যায়ে বাড়ির আধাকিলোমিটার দূরে পৌরসভা এলাকার একটি ডোবার পাড় থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মিনহাজকে। এ ঘটনায় শিশুর চাচা মাহবুব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’ মিনহাজের বাবা মামুন বলেন, ‘অপহরণকারীরা তাদের পরিচয় দেয়নি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ছেলেকে ফেরত পেয়েছি।’ ওসি আজিজুর জানান, শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা করেছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা