kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ডেঙ্গুতে শাপলার সঙ্গে ঝরে গেল পেটের সন্তানও

শোকাচ্ছন্ন জয়পুরহাট

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জয়পুরহাট পৌর এলাকার শান্তিনগরের মেয়ে শারমিন আক্তার শাপলা (৩২)। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তিনি ও তাঁর স্বামী আগারগাঁও আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক নাজমুল হক। কিন্তু সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না তাঁদের। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার ভোরে শাপলা ও তাঁর অনাগত সন্তান চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

শেষ সময়টুকু পাশে থাকতে পারেননি স্বামী নাজমুল হক, জানতেন না স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবরও। গত শুক্রবার প্রশিক্ষণ নিতে সাত মাসের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া যান তিনি। এর আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পেলেও স্বামীর বিদেশ যাওয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য এ খবর তাঁকে জানাননি শাপলা। জানাতে বারণ করে দিয়েছিলেন অন্যদেরও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকই দেশে ফিরতে হচ্ছে নাজমুল হককে। স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে গতকালই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি।

শাপলার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম উজ্জল জানান, শাপলা তেজগাঁও আবহাওয়া অফিসের কলোনিতে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। সাত বছরের একটি ছেলে আছে তাঁদের। আরেক সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি জয়পুরহাটে যান তিনি। জ্বর আসায় গত শুক্রবার তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর তাঁর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। একই দিন স্বামী নাজমুল হক দক্ষিণ কোরিয়া চলে যাওয়ায় তাঁকে কিছু জানাতে নিষেধ করেন শাপলা। শনিবার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে জয়পুরহাটের শান্তিনগরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল সকাল ৯টার দিকে শাপলার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। মা জাহানারা বেগম বিলাপ করে চলেছেন সন্তানের জন্য। প্রতিবেশীরা এসে সান্ত্বনা দিচ্ছে তাঁকে। প্রতিবেশীরা জানায়, মৃত্যুর খবর পেয়ে শাপলার বড় বোন শাহনাজ পারভিন ও ভগ্নিপতি আনিছার রহমান ঢাকায় গেছেন মরদেহ আনতে। আগারগাঁওয়ে স্বামীর কর্মস্থলে প্রথম জানাজার পর শাপলার মরদেহ ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়েছে। স্বামী নাজমুল হক দেশে পৌঁছার পর মরদেহ জয়পুরহাটে নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা