kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

সিলেটে একযোগে উন্নয়ন, হাঁসফাঁস নগরবাসীর

নগরের বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেন সংস্কার ও নতুন করে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেট নগরজুড়ে কয়েক মাস ধরে চলছে রাস্তা সম্প্রসারণ, ড্রেন সংস্কার, পুনর্নির্মাণ এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ। নগরের সব কটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একসঙ্গে এতগুলো কাজ চলার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সারা দিন লেগে থাকছে তীব্র যানজট। রাস্তার পাশে ইট, বালু, পাথর ও যন্ত্রপাতি রাখার কারণে ব্যস্ত সময়ে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে পথের এই দুর্ভোগের কারণে হাঁসফাঁস করে পথচারীরা। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রতি দাবি জানিয়েছে অনেকে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, নগরের বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেন সংস্কার ও নতুন করে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। পাশাপাশি নগরের সাত কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এতে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অন্যতম ব্যস্ততম বন্দরবাজার থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত সড়কে একসঙ্গে চলছে অনেক কাজ। সড়কের দুই পাশ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ কারণে সড়কের দুই পাশের ড্রেনের কাজও নতুন করে করতে হচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে চলছে আন্ডারগ্রাউন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার টানার কাজ। এসব কারণে রাস্তার দুই পাশেই নির্মাণসামগ্রী, যন্ত্রপাতি, ভারী যানবাহন এবং বৈদ্যুতিক তারের বিশাল কয়েলগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। এতে রাস্তার স্বাভাবিক আকার ছোট হয়ে এসেছে। ফলে সরু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাজ করছে শতাধিক শ্রমিক। এসব কারণে সারা দিনই লেগে থাকে তীব্র যানজট। সিলেটে এমন যানজট আগে কখনো দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আধা কিলোমিটার জায়গা পাড়ি দিতে ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে যানবাহনের।

গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরের চৌহাট্টা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় কথা হয় ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেনের সঙ্গে। একটি নামকরা খাবার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সিলেটের পরিবেশক এ তরুণ নিজের গাড়ি নিয়ে জরুরি কাজে বের হয়ে যানজটে আটকা পড়েছিলেন। ক্ষোভের স্বরে তিনি বললেন, ‘আধঘণ্টার চেয়েও বেশি সময় ধরে আটকে আছি যানজটে। সিলেটে কমবেশি যানজট সব সময় ছিল। কিন্তু এত দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়নি কখনো। জিন্দাবাজার পৌঁছাতে আরো কতক্ষণ লাগবে কে জানে।’ এক সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করায় এমন দুর্ভোগ বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, ‘উন্নয়ন হোক আমরাও চাই। কিন্তু নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় একসঙ্গে কাজ শুরু করায় যানজট এত তীব্র আকার ধারণ করেছে।’

মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সোহাইল বললেন, ‘এখন সড়কের যে অবস্থা তাতে গাড়ি চলাচলের সময় দুজন মানুষ পাশাপাশি হাঁটার মতো অবস্থা নেই, সেখানে যখন গরুর চালান আসা শুরু হবে তখন অবস্থাটা কী হবে ভেবে পাচ্ছি না।’  সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যেসব উন্নয়নকাজ চলছে তার গতি খুব কম। সড়ক সম্প্রসারণ কাজের উপকরণ রাস্তাতেই রাখা হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। যানজটও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।’

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়ির জন্য নগরবাসীকে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীরগতিতে হচ্ছে। আমরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, লোকবল বাড়িয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। ভোগান্তি যাতে কম হয় সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব কিছুই করছি।’ ঈদকে কেন্দ্র করে নগরের হাটগুলোয় পশু নিয়ে আসা শুরু হলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা