kalerkantho

চার স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধ’

ধর্ষক, ৩ মাদক কারবারি ও ডাকাত নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়মনসিংহ সদর ও ফুলবাড়িয়া, কক্সবাজারের টেকনাফ এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। সব এলাকার ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্র-গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোলাগুলির তিন ঘটনায় তাদের আট সদস্য আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাসহ যে দুজন নিহত হয়েছে তারা মাদক কারবারি বলে দাবি করেছে বিজিবি। এ ব্যাপারে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) : ফুলবাড়িয়ায় এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগের মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম (২০) গত রবিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার জানান, পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামিদের ধরতে কালাদহ ইউনিয়নের পাটিরা গ্রামে অভিযান চালায়। পাটিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে আসামিরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সামান্য দূরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জহিরুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি, গোলাগুলির সময় ফুলবাড়িয়া থানার এএসআই আকবর হোসেন, কনস্টেবল তুহিদুল ও হেলিমুল আহত হন। আহত পুলিশদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার রাতে জহিরুল ইসলাম বন্ধুদের নিয়ে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনি মিয়া (২৬) নামের এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য। জেলা ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে ময়মনসিংহ শহরের চর পুলিয়ামারি এলাকায় মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কয়েকজন মাদক কারবারি অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক কারবারিরা। পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে জনি মিয়া নামের এক মাদক কারবারিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে পুলিশ।

হবিগঞ্জ : চুনারুঘাটে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সোলেমান নামের এক ডাকাত নিহত হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের গাতাছড়া ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, গোলাগুলির সময় ডাকাতদের হামলায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, তিনটি ছোরা, একটি রড, একটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার এসআই আল আমিন জানান, রবিবার রাতে উল্লিখিত এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাকাতদল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। ওই সময় এক ডাকাতসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত ডাকাতকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার : টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রোহিঙ্গাসহ দুজন নিহত হয়েছে; যারা মাদক বিক্রেতা বলে বিজিবির ভাষ্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ইয়াবা ও অস্ত্র। বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান বিডিনিউজকে জানান, গতকাল ভোরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কুতুপালংয়ের ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-ব্লকের হায়দার শরীফের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৭) এবং হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াবাজার সাতঘরিয়া পাড়ার জলিল আহমদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩০)। বিজিবি বলছে, নিহতরা ‘সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারি চক্রের’ সদস্য ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

মন্তব্য