kalerkantho

আসছে কোরবানির ঈদ

চামড়া নিয়ে দোটানায় রংপুরের ব্যবসায়ীরা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এখনো পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দোটানায় রয়েছে রংপুরের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বন্যাসহ ধানের দাম কম হওয়ার কারণে এ বছর কোরবানি কম হওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। গত বছর রংপুরে দুই লাখ পশুর চামড়া কেনাবেচা হলেও এ বছর তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানিয়েছে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। রংপুর নগরের শাপলা চত্বর থেকে পশ্চিমে টার্মিনাল রোডে অবস্থিত রংপুরের চামড়ার আড়ত বলে খ্যাত চামড়াপট্টি ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কয়েক বছর আগেও সারা বছরই পশুর চামড়া কেনাবেচায় সরগরম থাকত চামড়াপট্টি। আর কোরবানির ঈদ ঘিরে কয়েক মাস আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসার আশায় বিভিন্ন পরিকল্পনা করত। দূরদূরান্ত থেকে ফড়িয়ারা চামড়া সংগ্রহ করে নিয়মিত এ আড়তে নিয়ে আসত। তখন ট্যানারিতে চামড়া পাঠানোর আগে ৪০ থেকে ৪৫ জন বড় ব্যবসায়ীর গোডাউনে সব সময় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হতো হাজার হাজার চামড়া। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ব্যবসায়ীরা নগদ টাকায় চামড়া কিনে বাকিতে বিক্রি করে পাওনা টাকা তুলতে না পারা, চামড়াশিল্পে ব্যাংকঋণ না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে পরে পুঁজি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে অনেক ব্যবসায়ী চামড়ার ব্যবসা থেকে পিছুটান দেয়। বর্তমানে হাতে গোনা চার থেকে পাঁচজন বড় ব্যবসায়ী ও ১০ জনের মতো ছোট ব্যবসায়ী এবং দুই শতাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী এই চামড়া ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। এ বছর কোরবানির ঈদের মাত্র ছয় দিন বাকি থাকলেও ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার তেমন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিন চামড়াপট্টিতে গেলে কথা হয় চামড়া ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত কোরবানির ঈদে পুঁজির অভাবে চামড়া কিনতে পারিনি। এবারের ঈদে দুই হাজারটি চামড়া কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে ১৫৪টি ট্যানারির মধ্যে সাভারে চালু হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি। ফলে চাহিদা না থাকায় চামড়ার টাকা দীর্ঘদিনের জন্য আটকে যেতে পারে অথবা লোকসানও হতে পারে। তাই চামড়া কিনবেন কি না, তা নিয়ে দোটানায় আছেন তিনি। এ ছাড়া সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির জন্য গত বছরের চেয়ে পশু কোরবানি অর্ধেকে নেমে আসার শঙ্কাও আছে।

ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন জানান, গত কোরবানি ঈদে নগরে ঘুরে গরুর ৬০টি কাঁচা চামড়া ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আড়তে দিয়েছিলেন। এতে তাঁর লাভ হয়েছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর চামড়াপট্টিতে এখন পর্যন্ত তিনি চামড়া সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ দেখছেন না।

আরেক চামড়া ব্যবসায়ী মহুবর রহমান জানান, গত বছর গরুর তিন হাজার চামড়া কিনেছিলেন। প্রতি বর্গফুট ৭০ টাকা দরে কেনেন। এশিয়া ট্যানারির প্রতি বর্গফুট ৮৫ টাকা করে চামড়ার দাম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিয়েছে ৭০ টাকা করে। এ ছাড়া ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন তিনি। এবার চামড়ার চাহিদা কম। তাই চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তিনি।

রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান জানান, গত কোরবানির ঈদে পাঁচ হাজার চামড়া ২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। প্রতি বর্গফুট চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে কেনা থাকলেও ট্যানারি মালিকরা প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৭০ টাকার বেশি না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে লোকসান করে চামড়া বিক্রি করেছেন। এদিকে হাতে গোনা কয়েকটি ট্যানারি চালু হওয়ায় এবারও চামড়ার চাহিদা থাকবে না বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক চামড়া ব্যবসায়ী পুঁজির অভাবে পথে বসে গেলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না।’

একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছে, চামড়া সংগ্রহের জন্য অন্যতম উপাদান হচ্ছে লবণ। কিন্তু ঈদ এলে লবণের দামও বেড়ে যায়। ১৫ দিন আগেও ৫০ কেজি লবণের বস্তার দাম ছিল এক হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গত কোরবানির ঈদে প্রতি বস্তা লবণ বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ২০০ টাকায়। প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে কমপক্ষে ১৫০ টাকার লবণ প্রয়োজন হয়। তবে তাড়াতাড়ি চামড়া বিক্রির করতে না পারলে, সে ক্ষেত্রে ব্যয় আরো বাড়বে বলে জানায় তারা।

মন্তব্য