kalerkantho

নরসিংদীর শিবপুরে আ. লীগ সভাপতির অভিযোগ

কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমপি

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমপি

নরসিংদীর শিবপুরে প্রকাশ্য জনসভায় সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঞা মোহনের বিরুদ্ধে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর তা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ছে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে। বিভক্তি দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশব্যাপী নানা গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের প্রতিবাদ ও জনসচেতনতার লক্ষ্যে গত ৩১ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে শিবপুর কলেজগেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘এমপি জহিরুল হক ভূঞা মোহনের বরাদ্দকৃত এক কোটি চার লাখ টাকার টিআরের কাজ শিবপুরের কোথায় হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করলাম, আমি কোথাও খুঁজে পাই না আপনার উন্নয়নের ছোঁয়া।’ তিনি আরো বলেন, এমপি মোহন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।

জনসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঞা রাখিল, জেলা যুবলীগের সভাপতি বিজয় গোস্বামী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা লীগের আহ্বায়ক তাপসী রাবেয়া, শিবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোল্লা, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। এসব অভিযোগ শিবপুর আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

হারুনুর রশিদ খানের এই অভিযোগ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এমপি তাঁর ‘মোহন এমপি’ নামের ফেসবুক আইডিতে এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি তীব্র ভাষায় ওই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। পাশাপাশি তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে টিআর-কাবিখার বিভিন্ন প্রকল্পের একটি তালিকা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানের তত্ত্বাবধানে ৯ টনের একটি কাবিখা প্রকল্প রয়েছে। যার প্রকল্প সভাপতি চক্রধা গ্রামের মোহাম্মদ হানিফ। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রাখিল নিজ নামে প্রকল্প দিয়ে ১০ টন কাবিখা বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে আরো ১৬ টন চাল বরাদ্দ নিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, আরো চারটি প্রকল্প বাবদ রাখিল বরাদ্দ নিয়েছেন দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। এমপি মোহন তথ্য ছাড়া ভিত্তিহীন কোনো মন্তব্য কাউকে না করতে অনুরোধ জানিয়ে ওই রকম ঘটনায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।

এর জবাবে হারুনুর রশিদ খান বলেন, ‘টিআর প্রকল্পের অধীনে সরকার এক কোটি পাঁচ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি কাবিখার নামে তিন লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ও গম বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা বরাদ্দপ্রাপ্ত এসব প্রকল্পের টাকা, চাল ও গমের মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পের তালিকা চেয়েছি। এমপি মোহন সাহেব ফেসবুকে যে প্রকল্পের তালিকা দিয়েছেন তা তো কয়েকটি মাত্র। আর এগুলো তো প্রকল্পের নামমাত্র। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, সেটা হচ্ছে কথা। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলেই তো আত্মসাৎ।’

এমপি জহিরুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে তো একটু সময় লাগে। আর একই প্রকল্পগুলো বরাদ্দ দেওয়া আমার কাজ, বাস্তবায়ন হয়েছে কি না প্রশাসন দেখবে। আর এসব বরাদ্দ তো আমি কিংবা আমার পরিবারের লোকজন নিইনি। উনি তো সব জানেন। উনার জ্ঞাতার্থেই সব প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা