kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

সব মসলার দাম বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব মসলার দাম বাড়তি

কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের পেছনের অংশের মুদি দোকানগুলোর একটি ইয়াসিন জেনারেল স্টোর। এক ক্রেতা এই দোকানে এসে সাদা এলাচের দাম জানতে চাইলেন। বিক্রেতা জানালেন ভালোটা নিলে কেজি পড়বে তিন হাজার ২০০ টাকা। আঁতকে উঠলেন ক্রেতা।

পরে মেহেদী হাসান নামের ওই ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের আগে দাম একটু বাড়ে। তাই বলে এলাচের কেজিতে এক হাজার টাকা বাড়বে, এটা কেমন কথা। অন্য যেকোনো সময় এলাচ কিনেছি এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরে।’

গত বছর কোরবানির ঈদের আগে প্রতি কেজি এলাচের দাম ছিল খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা। এবার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি তিন হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ কেউ ৫০ গ্রাম কিনলে তাঁকে গুনতে হবে ১৬০ টাকা। শুধু এলাচেই নয়, সব মসলার দামই এবার বাড়তি।

কোরবানির ঈদে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, জিরা, কিশমিশসহ বেশ কয়েকটি মসলাজাতীয় পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এ বাড়তি চাহিদার কারণে প্রতিবছরই এগুলোর দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। তবে এবার কয়েকটি পণ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা অস্বস্তিতে পড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা। আমদানি করা আদা কিনতে কেজিতে খরচ হচ্ছে বাজারভেদে ১৭০-১৯০ টাকা, যা মাসখানেক আগেও ১১০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ২০.৬৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে আদার।

একইভাবে রসুনের দামও বাড়তি। দেশি রসুন ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকা কেজি দরে। টিসিবি বলছে, গত এক মাসে রসুনের দাম গড়ে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫-৪৮ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। টিসিবির হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামও বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

হাতিরপুল বাজারের দোকানি মঞ্জুরুল কালের কণ্ঠকে জানান, পাইকারি বাজারের দামের ওপরই তাঁদের নির্ভর করতে হয়। পাইকারি বিক্রেতারা বাড়ালেই দাম বাড়ে।

তবে ঈদ উপলক্ষে যেসব মসলার চাহিদা বাড়ে তার মধ্যে দারচিনির দাম এবার বেশ চড়া। গত বছর দারচিনি বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকার মধ্যে। এবার তা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪০-৫৬০ টাকায়। তবে স্থিতিশীল রয়েছে জিরার দাম। ভারত থেকে আমদানি করা জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৩৮০ টাকা কেজি দরে। লবঙ্গ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, তেজপাতা ১৬০-২২০ টাকা, কিশমিশ বাজারভেদে ৪২০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজার সততা জেনারেল স্টোর বিভিন্ন মসলা পাইকারি ও খুচরায় বিক্রি করে। বিক্রেতা সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুচরায় মসলাগুলো কম কম করে বিক্রি করতে হয়। অনেক দিন ফেলে রাখতে হয়। ঈদ গেলেই এগুলো এত বিক্রি হবে না। এ জন্য একটু বাড়তি দাম নেওয়া হয়।’

মৌলভীবাজারের পাইকারি বিক্রেতা রুবেল ট্রেডিংয়ের মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘এলাচের সরবরাহে সংকট আছে। রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির কারণেই এলাচের দাম বেড়েছে। দারচিনির দামও বেড়েছে রপ্তানিমূল্য বৃদ্ধির কারণে।’

ঢাকার খুচরা বাজারগুলোর তুলনায় সুপারশপগুলোতে বিভিন্ন মসলার দাম কয়েক গুণ বাড়তি। শপগুলোতে প্যাকেট করে মসলাগুলো বিক্রি করা হয়। সুপারশপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ ও ১০০ গ্রাম করে বেশির ভাগ মসলার প্যাকেট করা। ১০০ গ্রাম দারচিনির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায় অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৭৫০ টাকা। অথচ খুচরা দোকানগুলোতে দারচিনি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৬০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে ২০০ গ্রাম ওজনের কিশমিশের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায় অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৭৫০ টাকা, যা খুচরা বাজারে আরো কমে পাওয়া যাচ্ছে। ৫০ গ্রাম ওজনের এলাচের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৭৮ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে তিন হাজার ৫৬০ টাকা, যা কিনা এবারের বাড়তি দামের চেয়েও বেশি।

গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার একটি সুপারশপে কেনাকাটা করার সময় মসলার বাড়াতি দাম দেখে সালমা সুলতানা নামের এক ক্রেতা কারণ জানতে চাইলেন। সেখানকার এক বিক্রেতা জানালেন, মসলাগুলো বিভিন্ন কম্পানি প্যাকেট করে দিয়ে যায়। এগুলো তাদের নিজস্ব পণ্য নয়। এই ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কতভাবে যে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে, তা বোঝা খুবই মুশকিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা