kalerkantho

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ

সাত ঘণ্টায় বিলীন ২০০ মিটার

অর্ধশতাধিক বসতঘর ও দোকান মেঘনার গর্ভে

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেঘনার হঠাৎ ভাঙনের শিকার হয়েছে চাঁদপুরের পুরানবাজারের হরিসভা এলাকার শহর রক্ষা বাঁধ। ব্যাপক মাত্রার এই ভাঙনে তীর সংরক্ষণের বাঁধসহ অর্ধশত বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ভাঙনের এই তাণ্ডব চলেছে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। এ সময় নদীপারের ৫০টি বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি দোকান বিলীন হয়ে যায়। হুমকির মুখে রয়েছে প্রাচীন সাতটি মন্দির নিয়ে গঠিত হরিসভাসহ আশপাশের জনপদ। ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসি ব্লক ফেলতে শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

চাঁদপুর শহরে মেঘনাপারে নদীতীর সংরক্ষণের কারণে কয়েক বছর ধরে মূল ভূখণ্ডে নদীভাঙন অনেকটা বন্ধ ছিল। এতে স্বস্তিতে ছিল নদীপারের পুরানবাজারের বাসিন্দারা। কিন্তু সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং বেশ কিছু মন্দির নিয়ে গড়ে ওঠা হরিসভা এলাকায় শনিবার রাতে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার বিলীন হয়ে যায়। এ সময় মরণ সাহা, আদি সাহা, দীপক দে, শম্ভু দেসহ আরো অনেকের বসতবাড়ি, দোকানপাট হারিয়ে যায় মেঘনাগর্ভে। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে আশপাশের অনেক পরিবার জরুরি গৃহস্থালি সামগ্রীসহ অন্যত্র সরে গেছে। এলাকার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পৌরসভার পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

পুরানবাজারের মজিবুর রহমান, কার্তিক সাহাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম কোনো প্রস্তুতি না নেওয়ায় তারা এমন ভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা জানায়, এবারের বর্ষার শুরুতে ভাঙনের আশঙ্কার কথা স্থানীয় পাউবোকে জানানো হয়েছিল; কিন্তু বিষয়টি আমলে নেয়নি তারা। জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ও হরিসভা মন্দির কমিটির প্রধান সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে গোটা হরিসভা এলাকা মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এদিকে ভাঙন রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, ভাঙন ঠেকাতে সেখানে বালুভর্তি ১০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জহিরউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত ২০১০ ও ২০১১ সালে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় মেঘনা নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

মন্তব্য