kalerkantho

শিগগির মিলছে না মশার ওষুধের স্থায়ী সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিগগির মিলছে না মশার ওষুধের স্থায়ী সমাধান

ঢাকার দুই সিটিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কীটনাশকের যে সংকট তৈরি হয়েছে তার স্থায়ী সমাধান শিগগির হচ্ছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন কীটনাশক আনতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যদিও আজ-কালের মধ্যেই এই সিটির জন্য কিছু কীটনাশকের নমুনা বাইরে থেকে আসছে বলে মেয়র জানান।

অন্যদিকে আজ সোমবার সকাল নাগাদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) হাতে ভারত থেকে নমুনা হিসেবে এক চালান কীটনাশক এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। পাউডার জাতীয় এ কীটনাশক তরলে রূপান্তরিত করলে পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫ হাজার লিটার, যা বড় মশা নিয়ন্ত্রণে তিন-চার দিন প্রয়োগ করা যাবে। এরপর কী হবে এর নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

কেবল ঢাকায়ই এডিস মশার অস্তিত্ব রয়েছে বলে সব মহল থেকে বলা হচ্ছিল। কিন্তু এখন ঢাকার বাইরেও অনেক এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এ মশা ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঢাকার বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক সংকটের সমাধান বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সচেতনা বাড়াতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছু নির্দেশনা দিয়েছে কেবল।

ডিএসসিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান সৌজন্য হিসেবে কীটনাশকের এ নমুনা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে। গতকাল রাতেই ভারত থেকে বিমানে করে বিশেষব্যবস্থায় এ নমুনা ঢাকায় পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে পরে এ কীটনাশক আনতে হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সরকারের স্বাভাবিক প্রটোকল অনুসারেই আনতে হবে, যাতে অনেক দিন সময় লেগে যাবে।

ওই সূত্র জানায়, দুই দিন আগে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক দফা নমুনা এনে তা এখানে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতেও মশা নকডাউন বা মরার হার ছিল ৩৫-৪০ শতাংশের মতো। তবে আজ যে কীটনাশকের নমুনা আসছে সেটাতে শতভাগ মশা নকডাউনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মশা মারতে চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে মশার ওষুধ আনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিএনসিসি। গতকাল ওষুধের নমুনা ডিএনসিসির কাছে পৌঁছার কথা ছিল। ওষুধের এসব নমুনার মান পরীক্ষা করবে সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগ এবং কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বড় চালান আনবে সংস্থাটি। ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম এসব জানান। তবে মূল চালান আনতে কত দিন লাগবে সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

মেয়র জানান, বর্তমানে মশার অ্যাডাল্টিসাইড তৈরিতে ০.৫ শতাংশ পারমেথ্রিন, ০.২ শতাংশ টেট্রামেথ্রিন, ০.১ শতাংশ এস বায়ো-এলিথ্রিন ও ৯৯.২ শতাংশ কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পারমেথ্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কার্যকর ওষুধ খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ছয়টি ওষুধ কিনতে সুপারিশ করে। এসব ওষুধ ভারত, সিঙ্গাপুর ও চীনে পাওয়া যায়। এই তিন দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ডিএনসিসি। ওই সব প্রতিষ্ঠান নমুনা পাঠাচ্ছে। নমুনা আসার পর তা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগ এবং কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হবে। ওই সব প্রতিষ্ঠানের মানে উত্তীর্ণ হলেই চূড়ান্তভাবে ক্রয় আদেশ দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক নিখিল রঞ্জন রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে সারা দেশে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য