kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

চট্টগ্রাম নগরে চলছে গ্রামের অটোরিকশা

মাসে চাঁদা সাড়ে ৫ কোটি টাকা!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম নগরে চলছে গ্রামের অটোরিকশা

চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে এভাবেই চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিচুবাগান এলাকা থেকে ট্রিপ নিয়ে স্থানীয়ভাবে চলাচলের জন নিবন্ধিত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা লোকাল গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করে। প্রবেশমুখ কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় যাত্রী নামায় অটোরিকশাটি। এরপর হঠাৎ এক যুবক এসে ‘চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পোচালক সমবায় পরিষদের’ নামে একটি টোকেন দিয়ে আগস্ট মাসের মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা নিয়ে যায়। পরে চালক খোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘দিনের অর্ধেক সময় চলে গেছে। আয় করেছি ২৫০ টাকা। কিন্তু মাসিক চাঁদা নিয়ে গেছে ৫০০ টাকা।’ তিনি বলেন, মাসিক চাঁদার পর দিনে প্রতিবার আসা বাবদ ১০ টাকা করে তাদের দিতে হয়। দেখা যায়, দিনে ৭০ থেকে ১০০ টাকাও দিতে হয়। মাসিক চাঁদা মাসের শুরুতে ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে না দিলে এখানে গাড়ি ঢুকতে দেবে না।

এভাবেই ‘চাঁদার বিনিময়ে’ চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করছে গ্রামে চলাচলের জন্য নিবন্ধিত অটোরিকশা। হিসাব করে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে আসা প্রায় হাজার অটোরিকশার প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ এবং মাসিক ৩৩০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয় নগরীতে চলাচলের জন্য। এ ক্ষেত্রে প্রতি মাসে মোট চাঁদা তোলা হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের যোগসাজশে চালক-মালিক সংগঠনের নামে এই চাঁদা তোলা হয়, যাতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক স্থানীয় নেতাও জড়িয়ে গেছেন।

শুধু কাপ্তাই রাস্তার মাথা নয়, গ্রামে চলাচলের জন্য ‘চট্টগ্রাম’ নামে নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলো নগরীর অক্সিজেন, মুরাদপুরসহ নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত ঢুকছে। কালুরঘাট, শাহ আমানত সেতু এলাকা দিয়েও ঢুকছে গ্রামের অটোরিকশা। একটু খেয়াল করলেই ‘চট্টগ্রাম’ নামে নিবন্ধিত অসংখ্য অটোরিকশা নগরীতে দেখা যায়। অথচ ‘চট্ট মেট্রো’ নামে নিবন্ধিত ছাড়া অন্য কোনো অটোরিকশা মহানগরীতে প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ।

গতকাল সকালে নগরীর আরেক প্রবেশমুখ অক্সিজেন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তর দিক থেকে আসা গ্রামের অনেক অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে কিংবা চলাচল করছে। এগুলো চট্টগ্রাম, নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, রাউজান, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা। দেখা যায়, গাড়িগুলো অক্সিজেন মোড়ে আসামাত্র কয়েকজন ঘিরে ধরছে। এসব যুবকের হাতে চাঁদার রসিদ বই। গাড়ি আসামাত্র দৈনিক রসিদ ও মাসিক টোকেন নিয়ে হাজির হয় তারা।

সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে হাটহাজারী থেকে আসা (‘চট্টগ্রাম’ নামে নিবন্ধিত) একটি অটোরিকশা যাত্রী নামিয়ে একটি পেট্রল পাম্পের সামনে দাঁড়ায়। তাত্ক্ষণিক এক যুবক দৌড়ে গিয়ে ওই চালককে বলে, ‘ডেইলি রসিদ কোথায়’। এ সময় রসিদ নাই বলতেই ওই যুবক এসে ২০ টাকার একটি রসিদ দিয়ে টাকা নেয় এবং আরেকটি গাড়ির দিকে যেতে থাকে। 

পরে নাম প্রকাশ না করে ওই অটোরিকশাচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু আমি কেন, এই এলাকায় গ্রাম থেকে আসা অটোরিকশা দুই থেকে আড়াই হাজারের কম হবে না। সবাই  চাঁদাবাজির শিকার। এখানে দিনে প্রতিবার অক্সিজেন এলেই ২০ টাকার টোকেন কিনতে হবে। টোকেন না নিলে চাঁদাবাজরা পুলিশকে ইশারা করলেই পুলিশ এসে জরিমানা, মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে।

অন্য এক চালক জানান, উত্তর দিক থেকে অক্সিজেন এবং অক্সিজেন থেকে উত্তর দিকে বিভিন্ন রুট পর্যন্ত চলাচলরত প্রতিটি অটোরিকশার মাসিক চাঁদার পরিমাণ ৯৩০ টাকা। আর অক্সিজেন থেকে নগরের মুরাদপুর এবং ২ নম্বর সড়কে চলাচল করতে হলে চাঁদা দিতে হয় মাসে এক হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অক্সিজেন এলাকায় চট্টগ্রাম বেবিট্যাক্সি (সিএনজি) টেম্পো ড্রাইডার্স ও সহকারী ইউনিয়ন, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি চলছে।

এ ব্যাপারে বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ইঞ্জি.) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, নগরে জেলার অটোরিকশা এবং জেলায় নগরের অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধভাবে চলাচলরত গাড়ি জব্দ করছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিএনজি থ্রি-হুইলার বেবিট্যাক্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়াজি উল্লাহ বলেন, প্রবেশপথগুলোয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এবং থানা, বিট ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধভাবে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা