kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত কেরানীগঞ্জের খামারিরা

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অনান্য স্থানের মতো কেরানীগঞ্জের খামারিরাও নিজেদের গবাদি পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৮০টি খামারে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরুর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঘাস, খড়, দানাদার খাবার ব্যবহারের মাধ্যমে পশুকে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহির উদ্দীন বলেন, ‘ছোট-বড় মিলিয়ে কেরানীগঞ্জে প্রায় ৫৮০টি খামার রয়েছে। এ বছর এসব খামারের প্রায় ২০ হাজার গরু বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খামারগুলোতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরুর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আমাদের মনিটরিং রয়েছে। এ বছর খামারিরা কোনো ধরনের ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করছে না। এমনকি অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা করার জন্য কোনো ইনজেকশন ও ওষুধ ব্যবহার করছে না তারা। বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ এলেই ব্যাপারীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় দ্রুত গরু মোটাতাজা করার জন্য হরমোন, ডেক্সামিথাজল, ডেকাসন, স্টেরয়েড ইত্যাদি ইনজেকশন বা ওষুধ গরুর শরীরে পুশ করত। আমাদের মনিটরিং গ্রুপ খামারিদের ওই সব ওষুধ গবাদি পশুকে না খাওয়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকে।’

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জের শরীফ অ্যাগ্রো, আল বারাকা অ্যাগ্রো, আনোয়ার অ্যাগ্রো, সরফু অ্যাগ্রো, সিদ্দিক অ্যাগ্রো, ফার্ম ফিল্ডসহ বেশ কিছু খামার ঘুরে দেখা যায় সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতেই লালন-পালন করা হচ্ছে গরুগুলো।

আল বারাকা অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী জাহিদুল হাসান জিতু জানান, তাঁদের খামারের এবারের আকর্ষণ কালু নামের একটি গরু। গরুটি শাহীওয়াল জাতের। গরুটির ওজন হবে প্রায় ৭০০ কেজি, দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা। তিনি আরো জানান, বর্তমানে একটি গরু পালন করা অনেক ব্যায়সাপেক্ষ। মানুষের খাবারের চেয়ে গরুর খাবারের দাম বেশি। গত বছরের চেয়ে এ বছর কুড়া, ভুসির দাম অনেক বেড়ে গেছে।

জিতু বলেন, কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে, যারা বর্ডার থেকে চোরাচালানির মাধ্যমে গরু নিয়ে আসে। একমাত্র তাদের জন্য প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগার কারণেই তারা ঈদের দু-এক দিন আগেই চোরাই গরু নিয়ে হাজির হয়ে যায়।

রাজধানী উত্তরা থেকে কেরানীগঞ্জের শরীফ অ্যাগ্রোতে গরু কিনতে আসা ফারুক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রতিবছরই কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনেন। তবে এখানকার খামারগুলোতে দাম তুলনামূলক বেশি। তার পরও তিনি প্রতিবছরই এখানকার ফার্মগুলো থেকে গরু নিয়ে যান। কারণ এখানকার ফার্মগুলোতে গরুকে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক খাবার খাওয়ানো হয় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা