kalerkantho

নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে চাঁদা দাবি, আতঙ্ক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ‘আঞ্চলিক কমান্ডার বিপ্লবের’ নামে একের পর এক চাঁদা দাবির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ সব শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। গত কয়েক দিনে মোট ১৪ জন শিক্ষকের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং পরিবারের সদস্যসহ অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয় ও দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়েও শিক্ষকদের কাছে নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে কলেজটির সাত শিক্ষক-শিক্ষিকা কুষ্টিয়া ও ঈশ্বরদী থানায় আলাদাভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনটির বিপ্লব নামের কোনো আঞ্চলিক কমান্ডারের কথা তাঁদের জানা নেই।  যেসব নম্বর থেকে ‘বিপ্লবের’ নামে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, ওই নম্বরগুলো বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে এর আগে রাজনৈতিক নেতা ও শিল্পপতিদের কাছে থেকে চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দিত একই সংগঠনের আঞ্চলিক কমান্ডার দাদা তপন। কিন্তু তপন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর হুমকি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি সেই দলের নামে আবারও চাঁদা দাবি করা হলো।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. আবদুর রহিমের করা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার সকালে প্রথমে নিষিদ্ধ সংগঠনটির আঞ্চলিক কমান্ডার বিপ্লব পরিচয়ে মোবাইলে ফোন করে পাঁচ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই চাঁদার টাকা সাত দিনের মধ্যে প্রদান করা না হলে তাঁদেরসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের অপহরণ করে হত্যার হুমকি প্রদান করা হয়। অধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. আবদুর রহিম কালের কণ্ঠকে তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।

একই দাবিতে পৃথক তিনটি নম্বর থেকে একই ব্যক্তির নামে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিরুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন শাহ, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রোকনুজ্জামান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কবিতা চাকলাদার, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল আওয়াল ও সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফ হাসান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রওশন আলী ও প্রভাষক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম ও প্রভাষক অসীম কুমার পাল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলামকে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক জানান, হুমকি দেওয়া নম্বর ধরে বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হুমকি প্রদান করা নম্বরগুলোর বর্তমান অবস্থান ঢাকায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা