kalerkantho

এক রাজমিস্ত্রি ও মাদক মামলার কাহিনি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খঞ্জনমারা গ্রামের বাসিন্দা বকুল হোসেন (৩৭) পেশায় রাজমিস্ত্রি। গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতের পর পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখে। একজন সহজ-সরল ব্যক্তি হিসেবে ভাবমূর্তি থাকায় গ্রামের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সঙ্গে ঠুকে দেয় মাদকের একটি মামলা।

পুলিশের হুমকিতে মামলার সাক্ষী হওয়া দুই ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামের লোকজনসহ সবাই বলছে, মাদক গ্রহণ কিংবা মাদকের কারবার—কোনোটির সঙ্গেই বকুল হোসেন জড়িত নন। অন্য কারো স্বার্থে রৌমারী থানার এসআই রুহুল আমিন এসব কাজ করেছেন।

মামলার প্রথম সাক্ষী ও খঞ্জনমারা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পুলিশ জোর করে সাক্ষী হিসেবে আমার স্বাক্ষর নেয়। পরের দিন দ্বিতীয়বারের মতো স্বাক্ষর নিয়েছে।’ দ্বিতীয় সাক্ষী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনার কিছুই জানি না। স্বাক্ষর দিতে না চাইলে পুলিশ আমাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়। পরে আমি ভয়ে স্বাক্ষর করি।’ দুই সাক্ষীই বিশ্বাস করেন, বকুল মাদক কারবারে জড়িত নন।

বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, তাঁর জানা মতে বকুল হোসেন কোনো মাদক কারবারে যুক্ত নন।

ভুক্তভোগী বকুল হোসেন পুরো ঘটনা লিখিত অভিযোগ আকারে গত বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। বকুল হোসেন বলেন, ‘মাদকের কারবার কিংবা ব্যবহার—কোনোটাই আমি করি না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো অভিযোগও আমার নামে নেই। পুলিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে ধরে নিয়ে মাদক কারবারি বানানোর চেষ্টা করে। আমাকে থানায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পাশাপাশি মারধর করে।’

পুলিশ কেন মিথ্যা মামলা দিয়েছে—এমন প্রশ্নে বকুল হোসেন বলেন, ‘আমি রাজমিস্ত্রির ভালো কাজ জানি। ঠিকাদাররা আমাকে কাজ দেয়। এ নিয়ে ভিটাবাড়ি গ্রামের মতিউর রহমানের সঙ্গে আমার বিরোধ আছে। মতিউরই পুলিশকে দিয়ে এসব করিয়েছে। এসআই রুহুল আমিনের সখ্যতা রয়েছে মতিউরের। দুজন একসঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, এক টেবিলে বসে চা খায়।’

এসআই রুহুল আমিন বলেন, ‘মাদক কেনাবেচা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে আমরা বকুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালাই। তার ভাই রফিকুল ইসলাম ও সাজু মিয়া নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করি দুটি ইয়াবা বড়িসহ। বকুল হোসেনকে থানায় আনার পর এলাকার মানুষের দাবিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বকুলের মোটরসাইকেলে ৫০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। এ কারণে গাড়ি থানায় রাখা হয়েছে।’ জোর করে সাক্ষী বানানোর বিষয়ে রুহুল আমিন বলেন, ‘দুই সাক্ষী ঘটনাস্থলে ছিল। তাদের জোর করে সাক্ষী বানানো হয়নি। তারা মিথ্যা বলছে।’

রৌমারী থানার ওসি হাসান ইনাম বলেন, ‘এসবের কিছুই আমি জানি না। আমাকে বলা হয়েছিল তারা মাদক কারবারি। আমি ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা