kalerkantho

জৌলুস হারাচ্ছে নাটোর রাজবাড়ি

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জৌলুস হারাচ্ছে নাটোর রাজবাড়ি

সংস্কারের অভাবে হারাতে বসেছে অর্ধবঙ্গেশ্বরী খ্যাত নাটোরের রানি ভবানীর রাজবাড়ির জৌলুস। ভেঙে পড়ছে রাজবাড়ির বিভিন্ন ভবনের অংশ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটির দায়িত্ব নিয়ে রাজবাড়ির দেয়ালে শুধু রং ও ফাটল বন্ধ করা ছাড়া তেমন কোনো কাজই করেনি। তবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোকসজ্জা করায় রাতের রাজবাড়ি হয়ে ওঠে অনেক মোহনীয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়িটির উন্নয়ন ও পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে প্যাকেজ কর্মসূচি। এরই মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাসও মিলেছে।

নাটোর রাজবাড়ি মহারানি ভবানীর স্মৃতিবিজড়িত। এখানে বসেই কবি জীবনানন্দ দাশ রচনা করেছিলেন তাঁর কালজয়ী কবিতা বনলতা সেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে যে কয়টি রাজবাড়ি স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাস দিয়ে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে, এর মধ্যে নাটোরের রাজবাড়ি অন্যতম।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়িতে নেই রাজা। নেই অর্ধবঙ্গেশ্বরী, যাঁকে নাটোরের মানুষজন এখনো বঙ্গমাতা বলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তবে আছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের জৌলুস, যা দেখতে প্রতিদিনই আসে অনেকেই। মুগ্ধদৃষ্টিতে দেখে যায় ছায়াঘেরা বিভিন্ন গাছপালা শোভিত ও কারুকার্যখচিত ভবন, পুকুর, দৃষ্টিনন্দন মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রাজবাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন। রাজবাড়ির প্রবেশমুখেই রয়েছে বিশাল একটি শানবাঁধানো পুকুর। আছে বিশাল সব গাছ। এখানে জনসমাগম নজরে রেখে নির্মাণ করা হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার। নাম দেওয়া হয়েছে আনন্দ ভ্রমণ। আনন্দ সেন্টার থেকে আরেকটু এগোলেই তারকেশ্বর মন্দির, এর একটু সামনেই ডান পাশে দেখা মিলবে বিশাল একটি মাঠ। এ মাঠের প্রান্তরে দাঁড়ালেই নজর কাড়বে রাজবাড়ির একতলা ভবনটি। একতলা এ ভবনটির নাম ছোট তরফ। ছোট তরফ মূলত বিশাল রাজবাড়ির একটি ছোট অংশ। ছোট তরফের ঠিক উল্টো পাশেই বড় তরফ। ভবন দুটি ছিল মূলত রাজ এস্টেটের হিসাব ও জমিদারি শাসন চালানোর জন্য রাজকর্মচারীদের কার্যালয়। এ ভবন দুটির পাশে রয়েছে বিশাল পরিখা। পুরো রাজবাড়িতে রয়েছে মোট পাঁচটি পুকুর।

রাজবাড়ির আঙিনায় রয়েছে বিশালাকৃতির আটটি শিবমন্দির। মন্দিরগুলোতে এখনো রীতি মেনে নিয়মিত পূজা অর্চনা করা হয়। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে প্রাচীন টেরাকোটার শিল্পকর্ম। মন্দিরকে ঘিরে আছে একটি শিবমূর্তি, ফণা তোলা সাপের মূর্তি, একজন বাউলের মূর্তিসহ নানা রকমের শৈল্পিক কারুকাজ। ওপরে ওঠার জন্য প্রতিটি ভবনের পাশেই রয়েছে লোহার তৈরি ঘোরানো সিঁড়ি। অনেক আগেই নাটোর রাজবাড়ির রানিমহল ভেঙে গেছে। দাঁড়িয়ে আছে শুধু কাঠামো। এসব দ্রুত সংস্কার করা না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহ মোহাম্মাদ রিয়াজ বলেন, ‘এ রাজবাড়ির উন্নয়নে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে ৯২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আরো বেশি বরাদ্দ নিয়ে একটি প্যাকেজ কর্মসূচি বাস্তবায়নের।’

 

 

মন্তব্য