kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এআরএফে সরব পশ্চিমারা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও জবাবদিহির তাগিদ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামে (এআরএফ) এবং ফোরামের ফাঁকে বৈঠকগুলোয় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, নিপীড়নের জবাবদিহির তাগিদ দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। গতকাল শুক্রবার ব্যাংককে এআরএফে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তাঁরা এ প্রক্রিয়ায় আসিয়ানকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র মালয়েশিয়াও ওই আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

ইইউয়ের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেদেরিকা মোগেরিনি রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আসিয়ান দেশগুলো এ সংকট সমাধানের চেষ্টায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। তবে মিয়ানমারকে অবশ্যই জাতিসংঘ কাঠামোর সঙ্গে পুরোদমে কাজ করা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সব মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো অবশ্যই মিয়ানমারকে সমাধান করতে হবে।

এদিকে সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহায়তাবিষয়ক মন্ত্রী চ টিনের সঙ্গে বৈঠকে ইইউয়ের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ জবাবদিহি, মানবিক সহায়তাকর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টিসহ ঝুলে থাকা ইস্যুগুলোতে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও যোগাযোগ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রমুদউইনাইয়ের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংককে বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যু স্থান পেয়েছে। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাইক পম্পেও বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তিনি উৎসাহিত করেছেন।

এআরএফে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনিও বৈঠকগুলোতে রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনন্তকাল ধরে রোহিঙ্গাদের বোঝা বহন করতে পারবে না। তিনি এ সংকট সমাধানে আসিয়ানের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আলোচনা করেন।

এবারের বৈঠকে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ চীন সাগর ও রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এআরএফের আগে গত বুধবার আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আসিয়ান দেশগুলো রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে আরো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা