kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বন্যায় ৩ ঘণ্টায় সব শেষ এরশাদুলের!

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গায়ের ঘাম ঝরিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকার জন্য একটি পাকা ঘর। সম্পদ বলতে ৪৫ শতকের বসতভিটার এক পাশে আধাপাকা ঘর তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেন। বাড়িতে গড়ে তোলেন ছোট আকারের গরুর খামার। গাভির দুধ বিক্রিসহ গরু মোটাতাজাকরণও করেন এরশাদুল হক। এসব করতে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, যা পরিশোধে প্রতি মাসে কিস্তি চালাতে হয়। এর পরও তিন ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই চলছিল তাঁর দিনকাল। কিন্তু হঠাৎ একটি ঝড় সাজানো-গোছানো বাড়ি-বসতভিটা সব কিছু তছনছ করে দিয়ে গেল।

গত ১৬ জুলাই ভোর ৩টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মাস্টারপাড়া গ্রামের এরশাদুল হক ও তাঁর স্ত্রীর ঘুম ভাঙে ঘরের ইট-পাথর খসে খসে পানিতে পড়ার শব্দে। তাড়াহুড়া করে সন্তানদের টেনে তুলে ঘর ছাড়েন। এরপর শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছেন বাড়িঘর, আসবাব, ভাড়া দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর বসতভিটা কিভাবে পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। নিজেদের হাঁস-মুরগি, গবাদি পশুও স্রোতের পানিতে ভেসে যায়। পশুগুলো পরে উদ্ধার করা গেলেও অন্যান্য জিনিসের সন্ধান মেলেনি। কর্তিমারী ও বন্দবেড় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে এরশাদুলের সব কিছু নাই হয়ে গেল।

কর্তিমারীর বাজারপাড়ার মোমিনুল হক বলেন, ‘সকালে বাইরে ঘুরতে গিয়ে দেখি এরশাদুল হকের বাড়ি আর স্কুল ভবনটি নেই। এ দৃশ্য দেখে আমি চোখ ঘষে নিই, মনে মনে বলছিলাম ভুল দেখলাম না তো! আবার তাকাই—সেই একই দৃশ্য। এক রাতের মধ্যে পাকা বাড়ি ও আধাপাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডিভাইন প্রি-ক্যাডেট স্কুল ভবন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।’ এরশাদুলের সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার ওই চিত্র দেখে ফিরে যাওয়ার সময় চোখের জল না ফেলে কেউ যেতে পারেনি। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় বলেছেন, ‘বন্যায় এরশাদুলের বাড়িঘর, বসতভিটার ক্ষতির বিষয়টি আমরা জানি। তিনি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিওর কাছে অনেক টাকা ঋণী। এ ব্যাপারে তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা