kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রাজবাড়ীর চাষিরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে ৪৭ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে এখানকার চাষিরা। কেউ কেউ সেচ দিয়ে অল্প পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় পাটের রং হয়ে যাচ্ছে কালো।

সরেজমিনে সদর উপজেলার খানগঞ্জ, রামকান্তপুর, চন্দনী, শহীদ ওহাবপুর, সুলতানপুর, বসন্তপুর, মূলঘর, আলীপুর, বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের বাইটকামারা বিল, রাধাগঞ্জের বিল, পদ্ম বিল, বিল কুটিয়া, কাজীগাড়া বিল, ভেদাগারা বিল, বোয়াইজুরির বিল, শালমারা বিল, কানা বিল, চত্রার বিল, গোপালদি বিল, শ্যামনগর বিল এবং ওই সব ইউনিয়নের খাল ও পুকুর ঘুরে দেখা গেছে পানির অভাব। আলীপুরের পাট চাষি কামাল মিজি বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না। অপর চাষি লোকমান সরদার বলেন, তিনি এক বিঘা জমির পাট কেটে পুকুরের অল্প পানিতে জাগ দিয়েছেন। প্রচণ্ড রোদে সেই পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন সেচ দিয়ে পুকুরের পানি বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন।

চাষি ফরিদ মোল্লা বলেন, বাড়ির অদূরে খালে কিছুটা পানি জমেছে। সেখানে গাদাগাদি করে ২০ জন পাট জাগ দিয়েছে। পাট পচার কারণে পানির রং কালো হয়ে গেছে। ফলে জাগ হওয়া পাটের রঙও হয়েছে কালো। এখন এই কালো পাট বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম মিলবে না। কেউ কেউ পাট বাড়িতে ফিরিয়ে আনলেও বেশির ভাগ চাষিই বাধ্য হয়ে লোকসানে হলেও পাট বিক্রি করে দিচ্ছে।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে শতাধিক পাট চাষি অভিযোগ করেছে—যে স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি মাঠে ও খাল-বিলে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে তারা পাট জাগ দেওয়ার পানি পাচ্ছে না। তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে স্লুইস গেটগুলো সাময়িকভাবে হলেও খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছেন।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার বেলগাছি স্লুইস গেট ইতিমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা