kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

মশার উৎপাত, কিন্তু মশারি বা কয়েল ব্যবহার করা যায় না

জহিরুল ইসলাম   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মশার উৎপাত, কিন্তু মশারি বা কয়েল ব্যবহার করা যায় না

প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের শৌচাগারের সামনে পড়ে আছে রোগীর ব্যবহৃত স্যালাইন ও ওষুধের প্যাকেট, বাক্স উপচে মেঝেতে পড়ে আছে ব্যবহৃত সিরিঞ্জসহ ময়লা-আবর্জনা। শৌচাগারও হয়ে উঠেছে ব্যবহারের অনুপযোগী। এ ছাড়া রোগীর শয্যার নিচে ও আশপাশে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা, যেখানে উড়ছে মশা। হাসপাতালের আঙ্গিনায় দেখা গেল পানি জমে আছে, যেখানে জন্মাতে পারে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে দেওয়া এডিস মশা। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে এমন পরিবেশ দেখা গেছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের যে সব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে সেগুলোতে রোগীর শয্যায় মশারি দেখা যায়নি। এমনকি কয়েল জ্বলতেও দেখা গেল না। এগুলো ব্যবহারের অনুমতি নেই বলে জানা গেল। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরা।

জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাইলেই মশারি টানানোর অনুমতি দিতে পারি। কিন্তু বেশি রোগী থাকায় মশারি টানানোর অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। তার পরও কেউ টানাতে চাইলে আমরা নিষেধ করছি না। আমরা মশারি দেওয়ারও পরিকল্পনা করছি।’

ময়লা-আবর্জনা থাকার বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘সারা দিনের জমা আবর্জনা পরদিন নিয়ে যাওয়া হয়। আরো দ্রুত যাতে পরিষ্কার করা হয় সে জন্য বিশেষ লোক নিয়োগ করা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছিল মোট ৬৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলায় ৫০১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০, ষষ্ঠ তলায় ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২০, ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৫ জন, সপ্তম তলায় ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫, ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫৭, অষ্টম তলায় ৮০১ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন ১১ জনসহ (গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভর্তি ১১ জন) মোট ৬০ জন, ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ৯০ জন, নবম তলায় ৯০২ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে দুজন। আর শিশু ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫ শিশু, ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল (বিকেল ৩টা পর্যন্ত) ভর্তি হয় চার ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু। এই ওয়ার্ডে আগের ২০ জনসহ রয়েছে মোট ২৪ জন। ২১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭ জন। এই হিসাবে মোট ৬৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ডেঙ্গু রোগী রাখা হয়েছে এমন ওয়ার্ডগুলোতে, যেখানে বিভিন্ন রোগীসহ প্রায় ১৫০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে গড়ে তিনজন স্বজন থাকছে। সে হিসাবে প্রায় সাড়ে চার হাজার স্বজনও এখন ডেঙ্গু ঝুঁকিতে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে (ভবন-২) ঢুকতে হাতের বাঁ পাশে একটু সামনের দিকে হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের সমিতির কার্যালয়ের কাছে পানি জমে আছে। গত কয়েক দিনে হাসপাতালের আশপাশের নালা পরিষ্কার করার কাজ করলেও হাসপাতালে মশার উৎপাত দেখা গেছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগার ও রোগীর শয্যার পাশে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শয্যার চাদরও পরির্বতন করা হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা মাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘এমন ময়লা থাকলে তো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে। চারদিকে মশা-মাছি উড়ছে।’

ষষ্ঠ তলার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই হাতের বাম পাশে ক্লিনিক্যাল ক্লাসরুমের সামনের ছোট্ট জায়গায় ১০ জন রোগী রাখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা ডেঙ্গু রোগী জাহিদুল ইসলাম (২২) গত বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সকালের দিকে মশা খুব কামড়ায়। বিছানায় থাকা কষ্টকর। মা আর বোইনটা সঙ্গে আছে। তাগো নিয়ে ভয় হয়! কখন তাগো ডেঙ্গু হয়ে যায়। রাতে কয়েল আনাইছিলাম। নার্সরা জ্বালাইতে দিল না। বলতাছে মশারিও টাঙানো যাইবো না।’

মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের সেলিম মিয়া ডেঙ্গু নিয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, ‘ভাই কয়েল বা মশারি কিছুই কামে লাগান যাইতো না। কেমনে থাকমু? এই জন্য রাতের দিকে নার্স আর ডাক্তাররা কমে গেলে চুরি করে কয়েল জ্বালাই। কিন্তু বন্ধ করে দেওন লাগে। বেশি ধোঁয়া হইলে তো নার্সরা বুইজ্জা যাইবো।’

জানতে চাইলে ৮০১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স রোজিনা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি বেডের ওপর-নিচে রোগী। কিভাবে মশারি লাগাবে? তা ছাড়া কয়েল লাগালে অ্যাজমার রোগীদের সমস্যা হতে পারে, তাই কয়েল জ্বালাতে দেওয়া হয় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা