kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ঈদ যাত্রায় আগাম টিকিট বিক্রি শেষ

ট্রেনের টিকিটের ফাঁদ ফেসবুকে!

কাউন্টার, অ্যাপস, অনলাইনে না পেয়ে অস্থির যাত্রীরা

পার্থ সারথি দাস   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে গতকাল শুক্রবার। এর আগে গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কমলাপুরসহ পাঁচটি স্থানের কাউন্টার, রেলসেবা অ্যাপস ও অনলাইনে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ৭ থেকে ১১ আগস্ট ঢাকা থেকে ৩৭টি আন্ত নগর ট্রেনের আগাম টিকিট প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার। অথচ চাহিদা ছিল কমপক্ষে এর ১০ গুণ। কাউন্টার, অ্যাপস ও অনলাইন—কোথাও টিকিট না পেয়ে বিপাকে পড়েছে বাড়তি এই যাত্রীরা। আর এটাকে পুঁজি করে এবার ট্রেনের টিকিট বিক্রির ফাঁদ পাতা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

জানা গেছে, রেলওয়ের বিভিন্ন কাউন্টার থেকে সংশ্লিষ্ট দালালরা টিকিট কিনে তা চড়া দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ থেকে। কেউ টিকিট দেবে বলে বিকাশে টাকা নিয়ে টিকিট দিচ্ছে না। কেউ আবার তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে। আর কোটায় টিকিট পেতে ভিআইপিরা রেলওয়ের কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন।

ট্রেন টিকিট বায়িং অ্যান্ড সেলিং ইন বাংলাদেশ নামের ফেসবুক গ্রুপ থেকেও টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এ গ্রুপের সদস্য ১৬ হাজার। গত বুধবার তানভীর সোহেল এই গ্রুপে তাঁর মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে জানান, ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ধূমকেতু ট্রেনের এসি টিকিট তাঁর কাছে আছে। গতকাল ওই নম্বরে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে সোহেল জানান, তাঁর কাছে একটি নয়, চারটি এসি টিকিট আছে। সেগুলো পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন। কারণ তিনি দালালদের কাছ থেকে বেশি টাকায় কিনেছেন। তিনি দাবি করেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিরাজগঞ্জ যাবেন ৯ আগস্ট। তবে দালালরা ভুল করে তাঁকে টিকিট দিয়েছে ৮ আগস্টের।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল হকের কাছে এই চারটি টিকিটের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলোর দাম প্রায় ২ হাজার ৭০০ টাকা।

ফেসবুকে ‘ট্রেন টিকিট বায়িং অ্যান্ড সেলিং ইন বাংলাদেশ’ গ্রুপে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে কৌশলে। টিকিট কালোবাজারিদের যোগসাজশে তা করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই গ্রুপে ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকিট বিক্রির তথ্য জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীরা ইনবক্সে অনুরোধে সাড়া দিচ্ছেন।

রিয়া আহমেদ ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে সিল্ক সিটি ট্রেনের এসি টিকিট বিক্রি করবেন বলে তথ্য প্রচার করেছিলেন নিজের ফেসবুক আইডি থেকে। পরে ইনবক্সে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিকিটপ্রত্যাশীকে জানান যে একাধিক টিকিট দিতে পারবেন। তিনি ৬৫৬ টাকার টিকিটের দাম চান এক হাজার ৮০০ টাকা করে। তাঁরও দাবি, দালালের কাছ থেকে তাঁকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। ফেসবুকে টিকিট কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার আলী হোসেন নবাব কালের কণ্ঠকে বলেন, খুলনা যাওয়ার জন্য চিত্রা ট্রেনের ১০ আগস্টের তিনটি টিকিট কিনতে প্রথমে একজনকে অর্ধেকের একটু কম টাকা বিকাশ করতে বলেন। কথামতো তা করি। বাকি টাকা বিকাশ করার জন্য ফোন দিলে ওই ব্যক্তি পরে আর ফোনই ধরেননি। ফেসবুকে এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন সবুজ উদ্দিন নামে আরেক ব্যক্তি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার ১১ আগস্টের টিকিট কিনতে গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টারে অপেক্ষারত সবুজ বলেন, ‘কাউন্টারে ও অনলাইনে টিকিট না পেয়ে ফেসবুকে প্রতারিত হয়ে আবার কাউন্টারে এসেছি। না হলে বিআরটিসির বাসে যাব।’ 

ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে গতকাল রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর, বনানী ও তেজগাঁও রেলস্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া পুরনো রেলভবনে ১১ আগস্টের টিকিট বিক্রি হয়। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে এদিন টিকিটপ্রত্যাশীর ভিড় কম ছিল। কাউন্টারে গিয়ে ও রেলসেবা অ্যাপসে ঢুকে বেশির ভাগ টিকিটপ্রত্যাশী টিকিট পায়নি। তারা শেষ পর্যায়ে দ্বারস্থ হচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ বা রেল কর্মকর্তাদের কাছে। ফেসবুকে ট্রেন/বাস টিকিট এক্সচেঞ্জ/সেল গ্রুপ, অনলাইন ট্রেন টিকিট বিডিসহ বিভিন্ন গ্রুপেও ঝুঁকছে টিকিটপ্রত্যাশীরা।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) গত বৃহস্পতিবার আগাম বাস টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। শেষ পর্যায়ে রয়েছে বেসরকারি বাসের টিকিট বিক্রি। বিআরটিসির বাসের টিকিট রাজধানীর সাতটি বাস ডিপো থেকে বিক্রি শুরু হলেও গতকাল পর্যন্ত তেমন একটা সাড়া মেলেনি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা