kalerkantho

‘পাট বুড়োনোর পানি নেই, জাগ দেব কী কইরে?’

যশোরে কৃষকরা ক্ষেতের পাট নিয়ে বিপাকে

ফিরোজ গাজী   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পাট বুড়োনোর (ডুবানোর) পানি নেই। বিষ্টিও হচ্ছে না। যে বিষ্টি হচ্ছে তাতে পানি জইমতেছে না। পানি না জমলি পাট জাগ দেব কী কইরে? এই যে পাট দেখতিছেন, শুকোয় যাওয়া এই পাটতে পাটখড়িও বের হবেনানে। জ্বাল দিয়ার খড়ি (জ্বালানি) বানানো ছাড়া এই পাট কোনো কাজে আসপে না।’

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পলাশি গ্রামে পানির অভাবে জাগ দিতে না পেরে শুকিয়ে যাওয়া পাট ক্ষেতে দাঁড়িয়ে গত মঙ্গলবার বিমর্ষমুখে কথাগুলো বলছিলেন সঞ্জয় বিশ্বাস।

জানা গেল, চলতি মৌসুমে সঞ্জয় ও তাঁর দুই ভাই মিলে দুই বিঘা ছয় কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে সময়মতো জাগ দিতে না পারায় শুকিয়ে গেছে তাঁদের পাটের ক্ষেত। এখন তা থেকে পাট তো দূরের কথা, পাটকাঠিও পাওয়া যাবে না। এই পাট রোপণ ও পরিচর্যায় খরচ হওয়া প্রায় ১৫ হাজার টাকার পুরোটাই লোকসান।

যশোরের চাঁচড়া ইউনিয়নের গোয়ালদাহ গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বিশ্বাস পাট চাষ করে পড়েছেন উভয় সংকটে। এখন না পারছেন কাটতে, না পারছেন জমিতে রাখতে। ১১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে এখন তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে—কখন বৃষ্টি হবে! তিনি বললেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় পাট কাটতে পারছি না। আবার এভাবে ফেলে রাখলে ক্ষেতে পাট শুকিয়ে যাবে। অন্য বছর ক্ষেতের পাশে ডোবা-নালায় বৃষ্টির পানি জমত। এবার সেই সুযোগও হচ্ছে না।’

দেশের এক অংশ যখন বৃষ্টি-বন্যার পানিতে থইথই করছে তখন পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না যশোর অঞ্চলের কৃষকরা। ভরা বর্ষা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় ডোবা, নালা ও খাল-বিলে পানি জমেনি। অনেক চাষির পাট ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকে পাট কাটা শুরু করলেও দূর-দূরান্তের জলাশয়ে নিয়ে জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচের সম্মুখীন হচ্ছে। যশোরের প্রতিটি উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোতেও বিরাজ করছে একই অবস্থা। এতে করে চলতি মৌসুমে পাট চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ছে কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় যশোর জেলার কৃষকরা এবার বাড়তি আগ্রহ নিয়ে পাট চাষে ঝুঁকছিল। গত মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ২০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় তাদের উল্টো লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদ হোসেন শেখ বলেন, বিগত দুই মাস যশোরে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয়নি। এখন পাট কাটার উপযুক্ত সময় হলেও অনেক চাষি সময়মতো পাট কাটতে পারেনি। তবে শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে শুক্রবার থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আশা করি, এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং চাষিরা তাদের ক্ষেতের পাট জাগ দিতে পারবে।

 

 

মন্তব্য