kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

আইন সংশোধনে সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের সুবিধা মেলে না

নিখিল ভদ্র   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের সুবিধা মেলে না

শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে লভ্যাংশের টাকা জমা দিতে অনাগ্রহী দেশের বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। লভ্যাংশ আদায়ের জন্য দেশের ২৩টি জেলায় ২৮ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হলেও মাত্র ১৩০টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত লভ্যাংশের অর্থ জমা দিচ্ছে। আর লভ্যাংশের টাকা নিয়মিত জমা না হওয়ায় শ্রমিকরা প্রয়োজনের সময় অনুদান পাচ্ছে না। ফলে শ্রমিক কল্যাণ আইনের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের সুপারিশ করেছে এসংক্রান্ত সংসদীয় সাবকমিটি।

সংশিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৬ সালের ৬ জুলাই শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন কার্যকর হয়। ২০১৫ সালে ফাউন্ডেশনের অর্গানোগ্রাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। ২০১৭ সাল থেকে আইনটির সম্পূর্ণ কার্যকারিতা শুরু হয়। আইন অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে দেওয়ার কথা। কিন্তু তা জমা দিচ্ছে না বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৩০টি সেই লভ্যাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৬২ কোটি টাকা তহবিলে জমা হয়েছে। এর মধ্যে এফডিআর করা হয়েছে ৩২৯ কোটি টাকা। মাদার অ্যাকাউন্টে আছে ৩৩ কোটি টাকা।

আইনে বলা আছে, কল্যাণ তহবিলের মূল টাকা এফডিআর করা থাকবে। আর সেখানকার লাভ থেকে শ্রমিকদের অনুদান দেওয়া হবে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের লভ্যাংশ জমা না দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের কল্যাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার তহবিলে চাহিদা অনুযায়ী টাকা না থাকায় শ্রমিকদের অনুদান দিতে পারছে না ফাউন্ডেশন। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৯ জন অসুস্থ শ্রমিককে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে ফান্ড থেকে। তাদের দেওয়া সাহায্যের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা। তবে অনুদান পাওয়া বেশির ভাগ শ্রমিকের অভিযোগ, তারা আবেদন করে নির্ধারিত সময়ে অর্থ পায়নি।

সংসদীয় কমিটির কাছে মুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রানী খানের দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হলেও অনুদানের টাকা শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে অনেক দেরিতে। ফলে তা সঠিকভাবে শ্রমিকের কল্যাণে আসে না। তিনি জানান, বাচ্চা পেটে নিয়ে আবেদন করে নারী শ্রমিকরা, সেই বাচ্চা অনেক বড় হয়ে গেলেও অনুদানের টাকা হাতে আসে না। অনেকে অসুস্থ হওয়ার পর আবেদন করলেও টাকা পায় সুস্থ হওয়ার পর। আবার ঢালাওভাবে আবেদন বাতিল করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১ নম্বর সাবকমিটি। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই সাবকমিটি এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকও করেছে। মন্ত্রণালয়, ফাউন্ডেশন ও শ্রমিকদের কথা শুনেছে তারা। এরই মধ্যে সাবকমিটির প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।

সাবকমিটির আহ্বায়ক ইসরাফিল আলম এমপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই আইন মানছে। যারা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে সংসদীয় সাবকমিটি। এই টাকাগুলো অসহায় গরিব মানুষের টাকা। এর সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া কল্যাণ ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব। তাই যে ব্যাংকগুলোর পজিশন সবচেয়ে ভালো, সেখানে টাকা জমা রাখার সুপারিশ করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানকে আইন অনুযায়ী শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে লভ্যাংশের টাকা পরিশোধে বাধ্য করতে হবে। আর প্রয়োজনের সময় শ্রমিকদের অনুদানের টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। সাবকমিটির পক্ষ থেকে সেই সুপারিশ করা হবে।’

এ বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য সরকার উদ্যোগী হয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড গঠন করেছে। শ্রমজীবী মানুষের সন্তানরা যেন শ্রমিক না হয়, তারা যেন অফিসার হতে পারে সেই লক্ষ্যেই এই তহবিল। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে এটা গঠিত। মালিকদের আয়ের ওপর নির্ভর করে এটা বাড়তে থাকবে। শ্রমিকরা সঠিকভাবে শ্রম দিলে, মালিকরা উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে লাভ করতে পারলে এই তহবিল আরো বড় ও ব্যাপ্ত হবে।’ এই তহবিলে লভ্যাংশের অর্থ আদায় ও শ্রমিকদের প্রয়োজনে তা দ্রুত প্রদানের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা