kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ

আপ্রাণ চেষ্টা স্বেচ্ছাসেবীদের

বাঁধনে চাহিদা বেড়েছে তিন গুণ, কোয়ান্টামে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ

রফিকুল ইসলাম   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় রক্ত ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতার গুরুত্ব বেড়েছে। ডেঙ্গু রোগীকে প্লাটিলেট দিতে রক্ত সংগ্রহে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠনগুলো।

জানা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোনে রক্তের চাহিদা বেড়েছে তিন গুণ। একইভাবে রক্তের চাহিদা বেড়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনেও।

বাঁধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোনের সদস্যরা জানায়, মোবাইল ফোনে অনুরোধ পেয়ে কিংবা রোগীর চাহিদাপত্র দেখে তাৎক্ষণিক রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করছে তারা। টিএসসিতে বাঁধনের কার্যালয় থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা এবং প্রতিটি হল থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রক্ত ও রক্তদাতার জোগান দিচ্ছে তারা। গত জুলাই মাসজুড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যাগ রক্তের জোগান দিয়েছে বাঁধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোন। স্বাভাবিক সময়ে রক্তের চাহিদা থাকে এক থেকে দেড় হাজার ব্যাগ।

তাদের শঙ্কা, ডেঙ্গুর প্রকোপ এভাবে চলতে থাকলে ঈদে রক্ত ও রক্তদাতার ব্যাপক সংকট দেখা দেবে। তারা ঈদের সময়ও রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রাখবে। তবে তারা বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর জন্য তাৎক্ষণিক চাহিদা থাকায় রক্ত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাঁধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোনের সভাপতি আহসান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই মূলত রক্তদাতা। তাদের অনেক সময় পাওয়া যায় না। কেউ ক্লাসে থাকে, কেউ বা পরীক্ষায়। তাৎক্ষণিক রক্তের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেটা জোগান দিতে তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

আহসান উল্লাহ আরো বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের সময় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় রক্তের জোগান নিশ্চিতের ব্যবস্থা করব। প্রতিদিনই সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকবে। রক্তের অভাবে কোনো মানুষ যেন না মরে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য মাসের চেয়ে গত জুলাই মাসে রক্তের চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহে শুধু ডেঙ্গু রোগীর জন্য এক থেকে দেড় হাজার ব্যাগ রক্তের চাহিদা এসেছে। রক্তদাতা বা কোয়ান্টামের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোয়ান্টামের সিনিয়র কো-অর্গানাইজার মামুন হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপে রক্তের চাহিদা অনেক বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো বাড়তে পারে। সে জন্য নিয়মিত রক্তদাতাদের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের পরিচিতজন বা আত্মীয়-স্বজনকেও রক্ত দিতে নিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

রক্তাদাতাকে হাসপাতালে নিতে ফ্রি বাইক সার্ভিস : রাজধানীর যানজটের কথা চিন্তা করে রক্তদাতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসার জন্য ‘ফ্রি বাইক সার্ভিস’ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তারা এই সেবা চালু করেছে। সংগঠনের কর্মীদেরও রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ করছে।

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর জন্য রক্ত পেতে বাঁধনের সঙ্গে একত্রে কাজ করছি। রক্তদাতাকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ফ্রি বাইক সার্ভিস সেবা চালু করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ফোন নম্বরসহ তালিকা দেওয়া হয়েছে, যে কেউ ফোন করলেই রক্তদাতাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেবে এবং নিয়ে আসবে তারা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা