kalerkantho

উত্তর-দক্ষিণের কমিটি নিয়ে ভাবছে বিএনপি

শফিক সাফি   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তর-দক্ষিণের কমিটি নিয়ে ভাবছে বিএনপি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক-এগারোর ঘটনার পর সরকারবিরোধী সব আন্দোলনেই ব্যর্থতা দেখায় বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি। আন্দোলনে সফলতা আনতে এই কমিটিতে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করেও কোনো কাজ হয়নি। দুই কমিটিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। এই পরিস্থিতিতে উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটি করতে চাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। কমিটির নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে আপাতত দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটির নেতাদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আর মহানগরের সাবেক বড় নেতারা চাচ্ছেন, তাঁদের অনুসারীদের ফের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর মধ্যে এরই মধ্যে আমরা কয়েকটির নতুন কমিটি ঘোষণা করেছি। বাকি কমিটিগুলোও দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও নতুন করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগরের দুই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, এটিও নতুন করে করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সারা দেশের কমিটিগুলো যেহেতু পুনর্গঠন হচ্ছে, ঢাকা মহানগর বিএনপি তো কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। অন্য কমিটিগুলোর মতোই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির নিয়েও হাইকমান্ড ভাবছে।’

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল মহানগরকে দুই ভাগ করে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৭০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে সাবেক কাউন্সিলর এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আহসানউল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা উত্তরের ৬৬ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির মহানগর কমিটিগুলোর মেয়াদ দুই বছর। সে হিসেবে মেয়াদ তিন মাস অতিক্রম হয়েছে।

সূত্রের দাবি, সদ্য মুক্তি পাওয়া হাবিব উন নবী খান সোহেল ও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এম এ কাইয়ুম দলের এক শীর্ষ নেতাকে জানিয়েছেন, মহানগরের এমন কোনো নেতা নেই, যাঁর বিরুদ্ধে ২০টির কম মামলা আছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলার সেঞ্চুরিও হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার ডিঙিয়ে সফলতা পেতে হলে সাবেক হেভিওয়েট নেতাদের বলয় থেকে মহানগর বিএনপিকে বের করতে হবে। কমিটি করতে হবে তৃণমূলের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে।

তাঁরা বলেন, বিদ্যমান দুটি কমিটিরই প্রায় ৫০ শতাংশ নেতা কোনো না কোনো শীর্ষ নেতার তদবিরে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। ফলে তাঁদের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। ওই দুই নেতার মতে, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারলে চেইন অব কমান্ড থাকবে। কর্মসূচিও সফল হবে। এ জন্য তদবির থেকে মুক্ত থেকে তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী কমিটি গঠন করতে হবে।

মন্তব্য