kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ট্যাক্সি রিকুইজিশন করা যাবে না : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জনস্বার্থে ছাড়া পুলিশ কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারবে না। প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও ট্যাক্সি রিকুইজিশন করা যাবে না। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন।

পুলিশের গাড়ি রিকুইজিশনের বিধান বাতিল চেয়ে আট বছর আগে করা একটি রিট মামলা নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়েছে। আদালত মোট ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৬-এর ১০৩(ক) ধারার অধীনে পুলিশ যেকোনো গাড়ি রিকুইজিশন করতে পারে। এই বিধান চ্যালেঞ্জ করে এবং ওই আইনটি বাতিল চেয়ে ২০১০ সালে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৩ মে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি করেন। এই নির্দেশনায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি রিকুইজিশন না করা, গাড়ির যথাযথ ভাড়া পরিশোধ করা, হয়রানি বন্ধ করা, গাড়ি রিকুইজিশন করে ১৫ দিনের বেশি না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রায় দেন আদালত। রায়ের পর অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আইনে বিশেষ কারণে প্রয়োজনে গাড়ি রিকুইজিশন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে আরো রয়েছে রিকুইজিশন করা গাড়ি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা পরিবারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে অসদাচরণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে রিকুইজিশন করা গাড়ির তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। রিকুইজিশন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তদন্ত করতে পুলিশ কমিশনার ব্যবস্থা নেবেন। রিকুইজিশন করা গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গাড়ির পেট্রল খরচ বহন করতে হবে। চালকদের খাওয়ার খরচও দিতে হবে। একই গাড়ি ছয় মাসের মধ্যে দুইবার রিকুইজিশন করা যাবে না। নারী, শিশু ও রোগী বহনকারী গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না। পুলিশ কমিশনার এসব নির্দেশনা পালনে একটি সার্কুলার জারি করে তা সব পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন এবং এসব নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা