kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

তিতাসের মৃত্যু : তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিআইপি প্রটোকল বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নয়, বাকিরা সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী। গতকাল বুধবার মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ফেরিঘাটে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি না ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিটের শুনানিকালে আদালত এ মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি আটকে রাখার কারণে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অতিরিক্ত সচিবের নিচে নয়—এমন একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমনের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। গতকাল শুনানিকালে রিট আবেদনকারী একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত টক শোর উল্লেখ করে বলেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. সা’দত হুসাইন বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কেউ ভিভিআইপি মর্যাদা পাবে না। তবে ফেরিতে লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, ভিআইপি অগ্রাধিকার পাবে। এ সময় আদালত বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কেউ ভিআইপি নয়। এ দুজন ছাড়া বাকিরা সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকায় তাঁরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।

আদালত বলেন, সারা বিশ্বে ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুল্যান্স ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেতে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে তার উল্টো। আদালত বলেন, আমরা ঘটনাটি (তিতাসের মৃত্যু) জানি। তাঁরা (যুগ্ম সচিব) কেউ ভিআইপি নন। ভিআইপি কারা সেটা আইনেই বলে দেওয়া আছে। ভিআইপি থাকলেও অ্যাম্বুল্যান্সকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে যেতে দেওয়া হয়। কারণ এর সঙ্গে একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর বিষয় জড়িত।

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ফেরিঘাটে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি বসিয়ে রাখা হয়। ফেরিঘাটে আটকে পড়া স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স পার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েও ফেরি ছাড়া যায়নি। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা