kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

২০ মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু

উন্নত জাতিও গড়তে চাই : তথ্যমন্ত্রী
নতুন সমাজ গড়তে হবে : মোস্তফা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গতকাল বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি ২০ মাসব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা’র যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধুকে জানো-দেশকে ভালোবাসো’—এই স্লোগান সামনে রেখে গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল।

‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ মোট ১০০টি নির্বাচিত বই নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের পাঁচ মাস আগে এ বইমেলা যাত্রা শুরু করল। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার কালের কণ্ঠ।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকের এই দিনে মানুষ ক্রমাগতভাবে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মানুষ দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রাবণ প্রকাশনীর উদ্যোগে ও কালের কণ্ঠ’র সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এ বইমেলার মাধ্যমে মানুষ বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারবে। বঙ্গবন্ধু কিভাবে জাতিরাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, কারা সে সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল তা তরুণরা জানতে পারবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি ছিল। বই পড়ার প্রতিযোগিতা হতো। ছাত্রলীগও পাঠচক্রের আয়োজন করত। এখন আগের মতো কেউ বই পড়ে না। বই পড়ার নেশা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে গেছে। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধার পাশাপাশি কিছু বিরূপ প্রভাবও আছে। এখন যে গুজবের সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যেই ছড়িয়ে গেছে, যার প্রভাবও সমাজে দেখতে পাচ্ছি।’

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘আমরা অনেক উন্নত দেশের চেয়ে মূল্যবোধে সচেষ্ট, তা ধরে রাখতে চাই। সংস্কৃতিচর্চার ওপর, বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই, যাতে মূল্যবোধ আরো জাগ্রত হয়। আমরা উন্নত রাষ্ট্রের পাশাপাশি উন্নত জাতিও গড়তে চাই। এ জন্য শ্রাবণ প্রকাশনীর মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশে এখন দুটি ধারা চলছে। একটি আওয়ামী লীগ, অন্যটি অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের বই বিপক্ষ শক্তিকে পড়াতে পারি তাহলে তারাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। এখন ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের সৃষ্টি হয়েছে। গুজব ছড়ানো হচ্ছে, ফেসবুক সোসাইটি গড়ে উঠেছে। তাদের মুক্তিযুদ্ধের বই পড়াতে হবে।’

কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক বলেন, “১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ এই সময়কাল নিয়ে আমি তিনটি উপন্যাস লিখেছি—‘অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিপুরুষ’ ও ‘অগ্নিমানুষ’। ইতিহাস নির্মাতাদের নিয়ে লেখা তিনটি উপন্যাসে বঙ্গবন্ধুর পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার উঠে এসেছে। এ জন্য ১৮ বছর ধরে গবেষণা করেছি। দেশ-বিদেশের লাইব্রেরিতে গেছি, বই পড়েছি। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে চেতনায় ধারণ করতে হবে। বই পড়ার মধ্য দিয়েই আমাদের নতুন সমাজ গড়ে তুলতে হবে।”

মোস্তফা কামাল আরো বলেন, ১০ বছর আগে কালের কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সেই চেতনা থেকেই ২০ মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সহযাত্রী হয়েছে কালের কণ্ঠ।

শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবীন আহসান বলেন, ‘আমরা দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে যাব। সেই বই তরুণরা পড়বে। তারা বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্বন্ধে আরো জানতে পারবে।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শামীম আরা মুন্নী। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শেষ হয় বিশ্বের দীর্ঘতম ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা