kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

আসামে এনআরসি

৪১ লাখ লোকের নাগরিকত্ব ফয়সালা আগস্টের মধ্যে

প্রিয়া সাহার নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভারতে আছে বলে আসামের সংবাদমাধ্যমের দাবি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের আসাম রাজ্যের প্রায় ৪১ লাখ বাসিন্দার নাগরিকত্বের ফয়সালা হতে পারে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে। গত বছর জুলাই মাসে প্রকাশিত খসড়া নাগরিক তালিকায় (এনআরসি) প্রথমে ৪০ লাখ বাসিন্দাকে বাদ দিয়ে দুই কোটি ৮৯ লাখ লোকের নাম প্রকাশ করা হয়। গত জুন মাসে সেই দুই কোটি ৮৯ লাখ থেকে আরো এক লাখ বাসিন্দাকে বাদ দেওয়া হয়। বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের কথা ছিল। তবে গতকাল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই তালিকা প্রকাশের জন্য সময়সীমা আরো এক মাস বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। চূড়ান্ত এনআরসিতে নাম ওঠাতে হলে বাদ পড়া ব্যক্তিদের প্রমাণ করতে হবে যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে থেকে তারা বৈধভাবে আসামে ছিল।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম রাজ্য সরকার এরই মধ্যে প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলোর ২০ শতাংশ ব্যক্তির পরিচয় নতুন করে যাচাই করার আবেদন করেছিল। তাদের আশঙ্কা, এরই মধ্যে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এমন ব্যক্তিরা আছে যারা ভারতের প্রকৃত নাগরিক নয় এবং অনেক প্রকৃত নাগরিকও বাদ পড়েছে।

তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ গতকাল তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা জানিয়েছেন, নতুন করে দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির ২৭ শতাংশ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের শীর্ষ আইনজীবী তুষার মেহতা গত সপ্তাহে আদালতকে জানান, এনআরসি প্রক্রিয়ায় নতুন করে দাবি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮০ লাখ ব্যক্তির পরিচয় এমনিতেই নতুন করে যাচাই করতে হবে।

এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা সময় বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে এখনো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া এবং আসামে বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

গত বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত খসড়া এনআরসিতে আসামের ৪০ লাখ বাসিন্দা বাদ পড়ে। এরপর গত জুন মাসে আরো প্রায় এক লাখ বাসিন্দাকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে প্রায় ৪১ লাখ বাসিন্দা এখনো খসড়া এনআরসির বাইরে আছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত এনআরসিতে কতজন বাদ পড়বে তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ খসড়া এনআরসিতে নাম আছে এমন প্রায় দুই লাখ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবেদন জমা পড়েছে। এ ছাড়া প্রথম দফায় বাদ পড়া ৪০ লাখের মধ্যে প্রায় ৩৬ লাখ লোক নিজেদের ভারতীয় বলে দাবি করে আবেদন করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা