kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা নড়বড়ে

শরিকরা ‘একলা চলো নীতি’তে

শফিক সাফি   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সর্বশেষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক থেকে ঘোষণা এসেছিল ফ্রন্টের পরিধি বাড়ানো হবে, কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গত ১০ জুনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে বৈঠকের কথা ছিল, শেষতক তাও হয়নি। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বললেও সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই। শরিক দলগুলো নিজ নিজ কর্মসূচিতে ব্যস্ত, যেন ‘একলা চলো নীতি’ অনুসরণ করছে সবাই। এই অবস্থায় অনেকটাই ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

‘বর্তমান সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে কি নেই’—গত সোমবার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামালের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘ওইটা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) তো একটি নির্বাচনকে সামনে রেখে করা হয়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচন। সেই মূল লক্ষ্য তো আমাদের থাকবেই। এখন বন্যা সারা দেশে। এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নয়, কয়েক দলের ঐক্য নয়, সব দল ও জনগণের ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই আমি।’ যদিও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে ভবিষ্যতে ফ্রন্টের কী অবস্থান হবে এবং কী কর্মসূচি হবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’

সূত্রগুলো বলছে, চলতি মাসের প্রথমদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে বেশির ভাগ বিএনপি নেতাই মত দেন, একদলীয় ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা হয়ে ড. কামাল সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কথা বলতে চান না, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার মুক্তি দাবি করেন দুর্বলভাবে। এক বা দুই লাইনে। তাই এখন দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি নিয়ে বিএনপিকেই দলীয় কর্মসূচি দিতে হবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে নেতারা আরো মত দেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল। বিএনপির কারণেই ড. কামাল জাতীয় নেতা হয়েছেন। ফ্রন্টের সব কর্মসূচি সফল করে বিএনপি। সরকার মামলা দিলে তাও বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দেয়। আর সেই দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি চাইতে কার্পণ্য করেন ড. কামাল। তাই দলের নেত্রী ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আটটি বিভাগে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করে বিএনপি হাইকমান্ড। এদিকে গণফোরাম সূত্রের দাবি, বিএনপির একলা চলো নীতিতে অসন্তুষ্ট ড. কামালসহ ফ্রন্টের শরীকরা। তাঁরা মনে করছেন, ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কর্মসূচি ঘোষণা এবং শরিকদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সমাবেশে আমন্ত্রণ না জানানোয় তাঁরা অপমানিত বোধ করছেন। ফ্রন্টের নেতাদের সেই মনোভাবই ড. কামাল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন।

ঐক্যফ্রন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে খোঁজ-খবরে জানা গেছে, গত দুই মাস ফ্রন্টের কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। কোনো বিবৃতিও ফ্রন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। গত ১০ জুন সর্বশেষ ফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ বৈঠকে বসেছিল উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায়। সেই বৈঠকে ড. কামাল হোসেন থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ‘অসুস্থতার’ কথা বলে তিনি যাননি। এরপর ‘নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগ এনে গত ১০ জুলাই ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এমন পরিস্থিতি কেন হলো জানতে চাইলে ফ্রন্টের একাধিক নেতা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন ও ফ্রন্টের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ না করার বিষয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা