kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

‘মুনে অয় ইস্কুলডাও ইবার নদীয়ে খাবো’

হাকিম বাবুল, শেরপুর   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মুনে অয় ইস্কুলডাও ইবার নদীয়ে খাবো’

‘গতবার নদীর পেডে আমগর বাড়িগর গেছে, মরছিদ গেছে, ঈদগা মাড গেছে, কব্বরখান গেছে। ইবার মুনে অয় ইস্কুলডাও নদীয়ে খাবো। নদীর শুতের (স্রোতের) যি অবস্থা আমরা খুব চিন্তার মইদ্দে আছি। কুন্দিন যানি ইস্কুল ঘরডা ভাইঙ্গা পড়ে। ইস্কুল মাডের অর্ধেকটাতো অহনই নদীর মইদ্দে গেছেইগা।’ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে শেরপুরে নকলার দক্ষিণ নারায়ণখোলা গ্রামের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন স্কুলটির দাতা সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইস্কুলের জমি দান করেছিলাম। ইস্কুলডা ছিল বরতমান জাগা থাইক্কা আরো পরাই ৩০০ গজ দক্ষিণে। পরাই ৩০ বছর আগে একবার নদী ভাঙনে ইস্কুলডা নদীর মইদ্দে ভাইঙ্গা পড়ছিল। পরে এইহানে (বর্তমান স্থানে) জাগা দিয়া ইস্কুল ঘরডা তোলা হয়। ভবন পাক্কা অয়। কিন্তু নদী ভাঙ্গার যি অবস্থা, যিবাই বইন্ন্যার পানি তরপাইতাছে, এহনতো পানি লেবেল, যহন পানি টান দিবো, তাতে মুন অয়, ইবার আর এই ইস্কুলডাও থাকপো না।’

কয়েক বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে নকলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণখোলা গ্রামের কয়েক শ একর আবাদি জমি, অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, একটি মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ ও অতিপ্রাচীন একটি কবরস্থান বিলীন হয়েছে। এলাকায় একটিমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় (৪১ নম্বর নারায়ণখোলা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) সেটিও এবারের বন্যায় ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদের গর্ভে চলে যেতে পারে স্কুল ভবনটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদের উত্তর তীরে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্কুল মাঠের অর্ধেকটা এরই মধ্যে নদের গ্রাসে চলে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন-নিবেদন করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী কিংবা দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ছামিউল হক খান বলেন, ‘নদীভাঙনের কাছে আইজ আমরা বড়ই অসহায়। ঘরবাড়ি, ভিটামাটি, আবাদি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় এক কালের ধর্ণাঢ্য অনেক পরিবারকে এখন অসহায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এলাকার শত বছরের পুরনো একটি পাকা জামে মসজিদ, বাপ-দাদা আমলের প্রাচীন গোরস্তান, শতাধিক বাড়িঘর, খেলার মাঠ, কাঁচা রাস্তা, কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছরই নদী ভাঙছে। ইউএনও সাব আসেন, নেতারা আসেন, সরকারের লোকজন আসেন, দেখে যান; কিন্তু ওই পর্যন্তই। নদী ভাঙা থাইক্কা আমগরে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নাই, কোনো পদক্ষেপ নাই।’ 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা