kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

যশোর-জামালপুরের ১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

যশোর ও জামালপুর প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যশোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জনের ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রানী (৫২) নামের এক নারী মারা গেছেন। এদিকে জামালপুরে ছানোয়ার হোসেন নামের যুবক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ছাড়া গত এক মাসে এ রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন আরো সাতজন। অবশ্য এ দুই জেলার আক্রান্তরাই ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বর্তমানে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি আছে। আক্রান্তরা হলেন নড়াইলের আরিফুল ইসলাম (১৮), যশোরের নাফিসা (২১), তিতলি (১৮), ঈশান (১৪), তাহেরা (৫৫), আনোয়ার হোসেন (২৫), খালিদুজ্জামান (২৭), আমিনুর হোসেন (২৫) ও চুয়াডাঙ্গার আরিফুল (৩০)। আক্রান্তদের মধ্যে মারা যাওয়া রানী নড়াইলের কুড়িগ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৯ জুলাই যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইবনে সিনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত এক মাসে তাঁদের হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব রোগী ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যশোরে অবস্থান করে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি। এর পরও ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মশারির ভেতর রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তা ছাড়া লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে জামালপুরের ডেঙ্গু আক্রান্ত ছানোয়ার হোসেন গত তিন দিন ধরে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি শহরের বানিয়াবাজার এলাকার মো. আমিনুল ইসলামের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আরো সাতজন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে জেলা সদরের এ হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরের ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ছানোয়ার হোসেন জানান, তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় একটি মেসে থাকেন। একটি বেসরকারি কারিগরি কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমার ছাত্র তিনি। ঢাকায় অবস্থানকালে গত শনিবার তিনি প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত্ম হন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, মাঝে মাঝে বমি হচ্ছিল। জ্বর নিয়েই তিনি জামালপুরে চলে আসেন। গত রবিবার তিনি জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

জামালপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এ কে এম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘ছানোয়ার হোসেনের শরীরে ডেঙ্গুর প্রাথমিক স্তর এনএস-ওয়ান শনাক্ত হয়েছে। আশা করা করছি, দু-এক দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন।’  

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা