kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া

প্রবল স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আর কদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবছর ঈদের আগে ঘরমুখো ও ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখো মানুষের ঢল নামে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘটে। সেখানে পদ্মা নদীর পানি এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবল সে াত ও ঘূর্ণিপাকে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উভয় ঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে পদ্মার প্রবল স্রোতে এবারের ঈদ যাত্রা ঘিরে জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ প্রস্তুত হচ্ছে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন এ পথে কয়েক হাজার গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। প্রতিবছর উভয় ঘাটে ঈদের আগে ঘরমুখো ও ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখো মানুষের ঢল নামে। পাশাপাশি বিভিন্ন গাড়ির চাপ কয়েক গুণ বেড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে। এ সুযোগে ঘাট এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার, ‘ঈদ মৌসুমি’ দুর্বৃত্তরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তিন কিলোমিটার এই নৌপথ পাড়ি দিতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হয়। জনসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে এবার ঈদ যাত্রা ঘিরে জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় দুই নদী পদ্মা ও যমুনার সঙ্গমস্থল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ। কয়েক দিন ধরে সেখানে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবল সে াত বইতে থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। নির্দিষ্ট চ্যানেল ছেড়ে বর্তমানে ফেরিগুলো দেড়-দুই কিলোমিটার ভাটিপথ ঘুরে চলাচল করছে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। নদী পার হতে আসা বিভিন্ন গাড়ি সহসা ফেরি না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই আটকা পড়ছে।

বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি রয়েছে। ফেরিগুলোর অধিকাংশ অনেক পুরনো। এ কারণে স্রোতের বিপরীতে চলাচল করতে গিয়ে ইঞ্জিন সমস্যাসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। তবে ঈদে শাহ্ পরান, ভাষাশহীদ বরকত, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও ঢাকা নামের আরো পাঁচটি ফেরি এই নৌপথের যোগ হবে। এতে এগারোটি রো রো, সাতটি ইউটিলিটি, একটি এক-টাইপ ও একটি মিডিয়াম মিলে মোট ২০টি ফেরি দিয়ে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামাল দেওয়া হবে। কোনো ফেরি বিকল হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে নিয়ে দ্রুত মেরামত করা হবে। এ জন্য কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এই নৌপথে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন পচনশীল, জরুরি পণ্য, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য সব ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পারাপার বন্ধ থাকবে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে স্বাভাবিক হয়ে আসছে ফেরি চলাচল 

মুন্সীগঞ্জ ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, বন্যা ও আসন্ন ঈদ সামনে রেখে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে স্বাভাবিক হয়ে আসছে ফেরি চলাচল। নাব্যতা সংকট এড়াতে ১১-১২টি ড্রেজার কাজ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট পরিদর্শন করেন বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর মাহবুব উল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম মোস্তফা, প্রধান প্রকৌশলী মাহিদুল ইসলাম, পরিচালক শাজাহান মিয়া, উপপরিচালক আজগর আলী প্রমুখ।

পদ্মা নদীতে পানি কমতে শুরু করায় সে বল স্রোতের কারণে পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগায় উভয় পাড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা