kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ধর্মকে পুঁজি করে ৩০০ কোটি টাকা লোপাট!

রিমান্ডে এফআইসিএল চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিমান্ডে এফআইসিএল চেয়ারম্যান

ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) চেয়ারম্যান শামীম কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সিআইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরআন-হাদিসের আলোকে পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে মানুষকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে উদু্বদ্ধ করতেন শামীম। এরপর টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঢাকা দেন। আমানত রেখে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা করেছেন। প্রায় চার বছর পলাতক থাকার পর গত ৯ জুলাই শামীমকে সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এরপর আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তদন্তাধীন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ‘আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের’ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রাহকদের অভিযোগ, উচ্চ লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে শতকোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের কার্যালায়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) চেয়ারম্যান শামীম কবির ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে ধর্মভীরু ও স্বল্পশিক্ষিত লোকজনকে টার্গেট করতেন। তাদের কোরআন-হাদিস শুনিয়ে এবং পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে অফিসে ডেকে বিনিয়োগে উৎসাহী করতেন। বিনিয়োগের মুনাফা হিসেবে তিনি লাখে মাসে দুই হাজার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা (সুদ) দেওয়ার কথা বলে লিফলেট প্রচার করতেন। পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিতেন।

তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন শামীম। এর কিছুদিন পর টাকা দ্বিগুণ, তিন গুণ করার স্কিম চালু করেন তিনি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহ করেন। এভাবে তিনিসহ তাঁর সহযোগীরা প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সিআইডি কর্মকর্তা আরো জানান, ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি কৌশলে আত্মগোপন করেন এবং প্রাচার করতে থাকেন যে এফআইসিএলের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। শামীম কবিরের তথ্য মতে, আত্মসাৎকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি তাঁর নিজ গ্রাম (কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম) ও সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রাসাদোপম বাড়ি, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানা, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রায় ৪০ একর জমি কিনে রূপান্তর করেছেন।

মন্তব্য