kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পরীক্ষা

রান্না সবজিতে কীটনাশক তেমন পাওয়া যায়নি

১২টি নমুনার চারটিতে থাকলেও ছিল সহনীয় মাত্রার নিচে

শওকত আলী   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রান্না সবজিতে কীটনাশক তেমন পাওয়া যায়নি

অধিক ফলন ও দ্রুত বড় করার আশায় বিভিন্ন সবজিতে নানা ধরনের কীটনাশক, গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে হরহামেশাই। তবে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে অনেকে সবজি খেতে ভয় পায়।

তবে ভোক্তাদের ভয় অনেকটা দূর করতে পারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি গবেষণা প্রতিবেদন। এতে রাজধানীর পাঁচতারা হোটেল, মধ্যম মানের ও সাধারণ মানের কয়েকটি হোটেল থেকে রান্না করা কিছু সবজি নিয়ে পরীক্ষা করার ফলাফল জানানো হয়েছে। মোট ১২টি নমুনার প্রতিটিতে ৩০টি করে কীটনাশকের উপস্থিতির পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শুধু এক-তৃতীয়াংশ নমুনার কোনোটিতে একটি, কোনোটিতে সর্বোচ্চ দুটি কীটনাশকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে এবং এর উপস্থিতিও ছিল সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম। বাকি নমুনাগুলোতে কোনো ধরনের কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু থেকে একটি সবজির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ওই সবজি সাধারণত আধাসিদ্ধভাবেই প্রক্রিয়াকরণ করে পরিবেশন করা হয়। কোনো ধরনের মসলা ব্যবহার করা হয় না। সবজিটিতে ছিল বাঁধাকপি, গাজর, শিম ও বরবটি। এতে পরীক্ষায় ধরা পড়ে একটি মাত্র কীটনাশক ইমিডাকলোপ্রিড, যার মাত্রাও ছিল সহনীয় মাত্রার বেশ নিচে ০.০১৪ মিগ্রা/কেজি। আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি কেজিতে এর সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ০.৫০ মিগ্রা/কেজি।

আরেকটি নমুনায় নেওয়া হয়েছে একটু অন্যভাবে। কারওয়ান বাজার থেকে বাঁধাকপি নিয়ে তা বাসায় রান্না করা হয়েছে। এই রান্নার পর পরীক্ষা করে দুটি কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এগুলো হলো ক্লোরফিরিফস ও সাইপারমেথরিন। ক্লোরফিরিফস পাওয়া গেছে ০.০৪৬ মিগ্রা/কেজি, যার মানুষের দেহে সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা হলো ০.২ মিগ্রা/কেজি। সাইপারমেথরিন ধরা পড়েছে ০.০৬৩ মিগ্রা/কেজি, যার সহনীয় মাত্রা হলো ২.০ মিগ্রা/কেজি।

এভাবে মোহাম্মদপুর, শ্যামলীর কৃষ্ণচূড়া রেস্টুরেন্ট, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, তেজগাঁওয়ের মা সুবুহি রেস্তোরাঁ, শের-ই বাংলা রোডের তৃপ্তি বিলাস, কারওয়ান বাজারের সুরমা হোটেল, বহুব্রীহি হোটেল, র‌্যাডিসন, ধানমণ্ডির ধাবা রেস্টুরেন্ট এবং বাকি দুটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বাসায় রান্না করে। নমুনাগুলোর মধ্যে ছিল কলমিশাক, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বরবটি, চিচিঙ্গা, আলু, বেগুন, পাটশাক, শিম, ফুলকপি, পেঁয়াজ পাতা, ভুট্টা, টমেটো, লেটুস পাতা, ক্যাপসিকাম, ব্রকোলিসহ অনেক সবজি একসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রান্না। কোনো কোনোটা ছিল আধাসিদ্ধ, কোনোটা আবার পুরো সিদ্ধ। কোনোটা একেবারেই মসলা ছাড়া।

কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি ইউনিটের পরিচালক ও গবেষণা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ এখন অনেক ভয়ে থাকে কীটনাশক নিয়ে। এ জন্য অনেকে সবজি খেতে চায় না, কিন্তু গবেষণায় এত খারাপ চিত্র উঠে আসেনি। কয়েকটি নমুনায় উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তা ক্ষতিকর মাত্রার অনেক নিচে।’ তিনি বলেন, ‘যদিও গবেষণার আওতা খুব ছোট, কিন্তু এখানে পাঁচতারা হোটেল থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজারের সাধারণ একটি হোটেলের রান্না করা সবজিও পরীক্ষা করা হয়েছে।’

এই কর্মকর্তা ভোক্তাদের সচেতনতার জন্য জানান, সবজি রান্না করার আগে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

মন্তব্য