kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ

আপিল বিভাগে শুনানি শেষ, রায় যেকোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড নাকি ৩০ বছর কারাদণ্ড হবে, সে নিয়ে এক রিভিউ আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হয়েছে গতকাল। আদালত যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে গতকাল শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালত রিভিউ আবেদনকারী পক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ চার আইনজীবীর যুক্তি শুনেছেন। রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। ওই সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কত বছর সে বিষয়ে আপিল বিভাগের আলাদা দুটি রায়ে দুই রকম সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে রিভিউ আবেদন করেছিলেন মানিকগঞ্জের কারাবন্দি আতাউর রহমান। ওই আবেদেনর ওপর আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

গতকাল শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যাবজ্জীবন সাজার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হবে। আমাদের আইনে যাবজ্জীন কারাদণ্ড হিসেবে ৩০ বছর বলা আছে, যা রেয়াত পাওয়ার পর সাড়ে ২২ বছর হয়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড করা হয়েছে। এটা আইন করে করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে আইনে ৩০ বছর বলা আছে। এটা যদি পরিবর্তন করতে হয় তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ, ৪০১ ও ৪০২ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া কারাবিধি সংশোধন করতে হবে।’

সাভারে ২০০১ সালে জামান নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ২০০৩ সালে ঢাকার একটি আদালত কামরুল, আতাউর ও আনোয়ার নামের তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সাজার বিরুদ্ধে আতাউর ও আনোয়ার হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট ২০০৭ সালে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে আতাউর রহমানসহ আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আসামিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা