kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

দেশে ‘বহুমাত্রিক’ গরিব দুই কোটি ৬৭ লাখ

১২ শতাংশ ছাত্র ‘বহুমাত্রিক’ দরিদ্র পরিবেশে থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাংলাদেশে ১৬.৭ শতাংশ মানুষ ‘বহুমাত্রিক’ দরিদ্র পরিবেশে বাস করছে। সংখ্যায় যা দুই কোটি ৬৭ লাখ। এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ১২ শতাংশ ছাত্র ‘বহুমাত্রিক’ দরিদ্র পরিবেশে থাকছে। এরা সবাই স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। ছাত্রীদের ‘বহুমাত্রিক’ দরিদ্র পরিবেশে থাকার হার কম, ৭.২ শতাংশ। তবে বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ সাফল্য অর্জন করেছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ড প্রভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে গ্লোবাল মাল্টিডাইমেনশনাল প্রভার্টি ইনডেক্স ২০১৯ প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী সাত কোটি শিশুর ৪৩ শতাংশই খর্বাকৃতি বা কম ওজনের। স্কুলে যায় না দক্ষিণ এশিয়ায় তিন কোটি ৬৭ লাখ শিশু (অষ্টম গ্রেড)। এ ছাড়া এ অঞ্চলের তিন কোটি ২৩ লাখ শিশু বহুমাত্রিক দরিদ্র পরিবেশে জীবনযাপন করে।

বহুমাত্রিক গরিব বলতে বোঝানো হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানদণ্ডে একটি পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি। এই তিনটি বিষয়ে মোট দশটি সূচক রয়েছে। যদি কোনো পরিবারে দশটি সূচকের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতি থাকে, তাহলে তাকে বহুমাত্রিক দরিদ্র বা গরিব বলে বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্য সূচকের মধ্যে রয়েছে পুষ্টি, শিশুমৃত্যু। মানবসম্পন্ন জীবনযাত্রার মধ্যে রয়েছে উন্নত পয়োনিষ্কাশন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, সম্পদের মালিকানা ও বিছানা। আর শিক্ষার মধ্যে রয়েছে স্কুলে উপস্থিতি ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুমাত্রিক দরিদ্রের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসম্ভব সাফল্য অর্জন করেছে। দশটি সূচকের মধ্যে ৯টিতে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। এক বছর আগে তা ছিল প্রায় ১৮ শতাংশের মতো। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাল্টিডাইমেনশনাল প্রভার্টি ইনডেক্স একই ০.১৯৮। যদিও পাকিস্তানে অসমতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে অসমতা এখন ০.০১৬। আর পাকিস্তানে ০.০২৩। বিশ্বের ১০১টি দেশের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

মন্তব্য