kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বুড়িগঙ্গায় উচ্ছেদ অভিযানে বাধা

আটক তিনজনকে কারাদণ্ড
গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৯০ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুড়িগঙ্গায় উচ্ছেদ অভিযানে বাধা

বিআইডাব্লিউটিএ গতকাল বুড়িগঙ্গা নদীর শ্মশানঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। (বাঁয়ে) শ্মশানঘাট এলাকায় অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ রেললাইনের পাত উদ্ধার করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নদীতীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানে গতকাল বৃহস্পতিবার ভাঙা পড়েছে ৯০ স্থাপনা। নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল। বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর পারে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট থেকে শ্যামপুর লঞ্চঘাট পর্যন্ত দিনভর এ অভিযান চলে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) গতকাল সকালে অভিযান চালাতে গেলে শুরুতে হামলা ও বাধার মুখে পড়ে। এ সময় তিনজনকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে দেখা যায় আশপাশে ডকইয়ার্ড শ্রমিকসহ শতাধিক লোক জড়ো হয়ে আছে। তারাই একপর্যায়ে হামলা চালায়। এতে লাঞ্ছিত হন বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন, ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্তত পাঁচজন। স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম আহমেদ রিপনের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। তারা নদীতীরের জায়গা দখল করে বালু, পাথরের ব্যবসার পাশাপাশি একটি ডকইয়ার্ড তৈরি করেছে। সেখানে রেলের লোহার পাতসহ বিস্তর মালামাল মজুৎ করা ছিল। রিপনের ছোট ভাই ঘাট এলাকার ইজারাদার। এ ছাড়া তাঁর অনুসারীরা নানা ব্যবসা করে আসছে নদীতীরে। আগের দিন উচ্ছেদ অভিযানের শেষ পর্যায়ে বিকেলে বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তারা পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় পৌঁছলে দখলদাররা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়। সকাল থেকে অভিযান চলবে জেনে তারা পরিকল্পিত অবস্থান গ্রহণ করে। একপর্যায়ে উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে তারা প্রথমে তর্কে লিপ্ত হয়। এরপর হামলা চালিয়ে উচ্ছেদ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে তার আগে হামলাকারীদের অধিকাংশ নৌকা নিয়ে নদী পেরিয়ে পালিয়ে যায়। তবে নদীদূষণ ও দখলে জড়িতরা হামলা ও বাধা দিলেও উচ্ছেদ থামাতে পারেনি। পরে একে একে উচ্ছেদ হয় বালুর গদি, ভবনসহ অস্থায়ী ব্যবসাকেন্দ্র। সব কিছু গুঁড়িয়ে দিনভর প্রচেষ্টায় সাত একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানকালে নদীতীরে বালু ও পাথরের গদি দেখা গেছে বেশ কয়েকটি। নদীর সীমানায় রাখা বালু, পাথরসহ সব জব্দ করার পাশাপাশি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় বিআইডাব্লিউটিএর  সিনিয়র এডি নূর হোসেন স্বপন দিনভর হ্যান্ডমাইক নিয়ে নিলাম পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে ৯০টি স্থাপনা। যার মধ্যে রয়েছে একটি দোতলা, ১৫টি একতলা, ৪৫টি আধা পাকা ঘর ও ২৯টি টিনের ঘর। অবমুক্ত করা হয়েছে সাত একর জায়গা। এ সময় নিলামে বিক্রি হয় এক কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল। বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘উচ্ছেদে বাধা দেওয়া ও হামলার কারণে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সরকার ও আদালতের নির্দেশনা নিয়ে অভিযান চলছে। এ ক্ষেত্রে কারো বাধা ও হামলায় অভিযান থামবে না।’

মন্তব্য