kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী

মনোনয়ন পাবেন না নৌকার বিরোধিতাকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলীয় কোন্দলে জড়িত মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে যাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা আগামী দিনে মনোনয়ন পাবেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিদের সংসদে ও নির্বাচনী এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানালে তা বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এ কে এম শামীম ওসমান, মমতাজ বেগম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘যাঁর যাঁর এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন, নেতাকর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাঁদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন। যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয়টি নির্মাণ করতে হবে।’ সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের মধ্যে  কোনো ধরনের কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত না হতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ সময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। বিরোধিতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধিতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না।

‘তাঁরা কী চান’ : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘আমি জানি না, যাঁরা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাঁরা কী চান? আমরা তো ভর্তুকি দিয়েই নিয়ে আসছি। আমাদের রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। তার পরও আমরা জনগণের কাছ থেকে নিচ্ছি না। খরচটা বিবেচনায় নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা গ্যাস যদি দিতে না পারি, তাহলে কী হবে? উৎপাদন ব্যাহত হবে, রপ্তানি ব্যাহত হবে, কর্মসংস্থানও বন্ধ হয়ে যাবে। সারা দেশে হাহাকার শুরু হবে।’

মন্তব্য