kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

বৃষ্টিতে তলিয়েছে সড়ক-মহাসড়ক

গাজীপুরে দিনভর যানজট সীমাহীন ভোগান্তি

পানি জমে জলাবদ্ধতা, মহাসড়কে স্থবির হয়ে যায় গাড়ির গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাজীপুরে দিনভর যানজট সীমাহীন ভোগান্তি

মাঝারি বৃষ্টিতেই গতকাল বৃহস্পতিবার পানিতে তলিয়ে যায় গাজীপুর শহরের সড়ক-মহাসড়ক। অনেক স্থানে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। মহাসড়কে স্থবির হয়ে যায় যানবাহনের গতি। দুপুরের পর যানজট ও জলাবদ্ধতায় গাজীপুর পরিণত হয় দুর্ভোগের নগরে।

জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যে নগরের মধ্যে ভোগড়া, বাসন, খাইলকুর, গাছা, কুনিয়া, দীঘিরচালা, টঙ্গীর হোসেন মার্কেট, বাস্তুহারা, দত্তপাড়াসহ বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকার সড়ক ও গলিপথও তলিয়ে যায়। কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ওঠে। সড়ক ও গলিপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ পথচারী, গার্মেন্ট শ্রমিক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পানিতে ভিজে বা কাদাপানি মাড়িয়ে চলতে দেখা গেছে। আবার ভোগড়া, মালেকের বাড়ি, গাজীপুরা, হোসেন মার্কেট ইত্যাদি এলাকায় ডুবে যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ। পানির কারণে কমে যায় যানবাহনের গতি। অনেক স্থানে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজট দীর্ঘ হতে থাকে এবং সংযোগ সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রভাবে ঢাকা বাইপাসে প্রায় ১০ কিলোমিটার ও টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট সড়কের টঙ্গী থেকে পুবাইল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির মুখে পড়ে ওই রুটগুলোতে চলাচলকারী লোকজন।

মধ্য খাইলকুর এলাকায় দুপুরের খাবারের বিরতির সময় কথা হয় কারখানার শ্রমিক সাজেদা বেগমের সঙ্গে। ভেজা কাপড় দেখিয়ে বললেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলে এলাকায় তিন-চার ঘণ্টা পানি জমে থাকে। অলিগলি ডুবে যায়। অনেক সময় ঘরে পানি উঠে পড়ে। মালপত্র নষ্ট হয়। বৃষ্টি হলেই আমরা টেনশনে থাকি। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থা চলে এলেও এর থেকে মুক্তি মিলছে না।’

স্থানীয়রা জানায়, ভোগড়া, বাসন, আধেপাশা, আউটপাড়া এলাকার কলকারখানা ও আবাসিক এলাকার গৃহস্থালি পানি ও বর্জ্য অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব এলাকার রাস্তায় ড্রেন নেই। বৃহস্পতিবারের মাঝারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তাদের কষ্ট ছিল সীমাহীন। স্কুল থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে ফিরতে হয়েছে হাঁটুপানি ভেঙে।

বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের কাজের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে স্থানে স্থানে চলছে ড্রেনের কাজ। কোথাও করা হয়েছে গর্ত, কোথাও চলছে পাইলিং। এ কারণে এমনিতেই সড়ক হয়ে আছে সরু ও কাদাপানিতে ঝুঁকিপূর্ণ। গতকালের বৃষ্টিতে পানি জমে কয়েকটি স্থানে মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল। সর্তকতার সঙ্গে চলতে গিয়ে কমে আসে যানবাহনের গতি। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। দুপুর থেকে দূরপাল্লার বাসসহ কলকারখানার কাঁচামাল এবং রপ্তানি পণ্যবাহী গাড়িসহ সব ধরনের যানবাহনকে ধীরে চলাচল করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে সেই ধীর যাত্রাও থেমে গিয়ে রূপ নেয় বিশাল যানজটের। বিকেল পর্যন্ত যানজটের বিস্তার কয়েক কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়ে। এ মহাসড়কের যানজটের প্রভাবে ঢাকা বাইপাস সড়কে ভোগড়া থেকে মীরের বাজার এবং টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট সড়কে টঙ্গী থেকে পুবাইল পর্যন্ত এলাকাকে স্থবির করে রাখে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী।

গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (দক্ষিণ) সিনিয়র সহকারী কমিশনার থোয়াই অংপ্রু মারমা বলেন, ‘মূলত বৃষ্টির কারণেই বৃহস্পতিবারের যানজট সৃষ্টি হয়। বিআরটির কাজের জন্য মহাসড়কের অবস্থা হোসেন মার্কেট এলাকায় সবচেয়ে খারাপ। পানিতে ওই এলাকার সড়ক তলিয়ে গেলে আমরা গাড়ির চাকা সচল রাখতে পারিনি। বিকেলে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহন চলাচলে গতি আসে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা